ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
এ দেশে আর মামু-খালুর ফোন চলবে না: শফিকুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: বঞ্চনা, নদীভাঙন আর দীর্ঘদিনের অবহেলার বিরুদ্ধে সরাসরি অধিকার আদায়ের আশ্বাস দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বরিশালবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি জনগণ তাদের সুযোগ দেয়, তাহলে আর কারও অধিকারের জন্য আলাদা করে দাবি তুলতে হবে না সব ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, ‘নদীভাঙনে যারা সর্বস্ব হারিয়েছেন, যারা বছরের পর বছর বঞ্চিত থেকেছেন আপনারা আমাদের সুযোগ দিলে কথা দিচ্ছি, আপনাদের অধিকার আদায়ে আমরা নিজেরাই দায়িত্ব নেব। আল্লাহ যদি কবুল করেন, সমগ্র বাংলাদেশই আমার বাড়ি।’
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে স্থানীয় পাবলিক মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
নিজের পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি তাকে জিজ্ঞেস করে কোন জেলার মানুষ তিনি, তাহলে তার উত্তর একটাই সমগ্র বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘অনেকে হাসতে হাসতে বলে, এটা তো ট্রাকের পেছনে লেখা থাকে। আমি বলি, যে রাস্তায় যখন প্রয়োজন, আমি ঠিক সেখানেই পৌঁছে যাই।’
উন্নয়ন দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সবচেয়ে অবহেলিত, নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকেই উন্নয়নের যাত্রা শুরু হবে। এখানে কোনো আত্মীয়তা, সুপারিশ কিংবা প্রভাবের সুযোগ থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘এ দেশে মামু-খালুর ফোন চলবে না। প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের বাড়ি কোথায় সেটাও বিবেচনায় আসবে না। ন্যায্যতার ভিত্তিতেই জনগণের প্রাপ্য নির্ধারণ করা হবে।’
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যারা জুলাই মাসে রক্ত দিয়ে, পঙ্গু হয়ে, বুক চিতিয়ে লড়াই করে এই বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে তাদের আত্মত্যাগ আমাদের কাছে এক বিশাল আমানত। এই আমানতের দায় আমাদের আদায় করতেই হবে। তারা যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সেটি বাস্তবায়ন করাই আমাদের কর্তব্য।
এ সময় তিনি বলেন, দুটি ভোটের মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে গণভোট। ‘আপনারা কী বলবেন হ্যাঁ?’ প্রশ্ন করতেই জনসভায় উপস্থিত মানুষ একযোগে ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন।
এরপর তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানেই আজাদি, আর ‘না’ মানেই গোলামি। ইনশাআল্লাহ, বাউফলবাসী তাদের স্বাক্ষর রাখবে এবং সারা বাংলাদেশে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হবে। ‘হ্যাঁ’ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে, আর আল্লাহ না করুন পরাজয় মানেই দেশের পরাজয়।’
মিথ্যা মামলা ও দমন-পীড়নের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মিথ্যা মামলার মাধ্যমে নিরীহ মানুষ, তাদের পরিবার ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হচ্ছে। যারা এই জুলুমের সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকেও করতে দেব না।’
দেশের অর্থ পাচার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার ধ্বংস কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লুট করে বিদেশে পাচারের সংস্কৃতি আর চলবে না। আল্লাহ তৌফিক দিলে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা হবে।
সভা শেষে তিনি পটুয়াখালীর চারটি আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- রামিসা হ'ত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
- তিন ছাত্রদল নেতাকে ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিল সরকার
- আজ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের ৯০তম বৈঠক
- জাবিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে কারাদণ্ড
- নবম জাতীয় পে-স্কেল, কাটছাঁটের পর যত টাকা লাগছে?
- দেশে কমল সোনার দাম, ভরি কত?
- পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওবিসি সুবিধা বাতিলের ঘোষণা
- শিক্ষকদের ঈদ ভাতা নিয়ে যা জানাল মাউশি
- উপাচার্যের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে টাকা চেয়ে ভুয়া বার্তা
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভর্তি আবেদনের সময়সূচি প্রকাশ
- ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে অংশ নিলেই মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- ‘নতুন ধরন, নতুন ধারণা’ স্লোগানে আত্মপ্রকাশ করল দৈনিক আগামীর সময়
- শাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. খায়রুল ইসলাম
- ঢাকার আবহাওয়া নিয়ে দুঃসংবাদ
- গরু-মহিষ কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিধিনিষেধ বহাল