ঢাকা, সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২
নীলফামারীতে ১০০০ শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় এই মেগা প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত এই প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৪৫৯.৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিবে ১৭৯.২৭ কোটি টাকা এবং বাকি সিংহভাগ অর্থই চীন সরকারের অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর ২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।
গত বছরের মার্চে চীন সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের কাছে বাংলাদেশে একটি উন্নত হাসপাতাল স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতেই দ্রুততম সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীলফামারী সদর উপজেলায় একটি আধুনিক ১০ তলা প্রধান হাসপাতাল ভবনসহ চিকিৎসক-নার্সদের আবাসিক ভবন, ডরমেটরি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
এই হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নেফ্রোলজি (কিডনি), কার্ডিওলজি (হৃদরোগ), অনকোলজি (ক্যান্সার) ও নিউরোলজির মতো বিশেষায়িত বিভাগ থাকবে। এছাড়া আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ এবং উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধাসহ অপারেশন থিয়েটার থাকবে। হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য প্রায় ৮৯৩ জন চিকিৎসক, ১,১৯৭ জন নার্স এবং ১,৪১০ জন অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
একনেক সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই হাসপাতালটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে আর জটিল রোগের জন্য রংপুর বা ঢাকায় ছুটতে হবে না। এমনকি এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিণত হবে, যেখানে নেপাল ও ভুটানের রোগীরাও উন্নত চিকিৎসা পাবেন।”
বর্তমানে নীলফামারী জেলায় প্রায় ২১ লক্ষ মানুষের বসবাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী যেখানে ৪,৫০০–৬,০০০ শয্যা প্রয়োজন, সেখানে জেলা সদর ও উপজেলা মিলিয়ে শয্যা সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। বর্তমানে মানুষ মূলত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। নতুন এই ১০০০ শয্যার হাসপাতালটি নির্মিত হলে নীলফামারীসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোগান্তি ও ব্যয় কমবে।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ম্যারিকোর বিরুদ্ধে ১৮২৩ কোটি টাকার মামলা
- বিপিএল কোয়ালিফায়ার ১: চট্টগ্রাম বনাম রাজশাহী-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- বিপিএল ২০২৬ ফাইনাল: রাজশাহী বনাম চট্টগ্রাম-খেলাটি সরাসরি দেখুন
- ঢাবিতে পার্সিয়ান ডিবেটিং ক্লাবের উদ্যোগে ‘ফিউশন ফেস্ট’ অনুষ্ঠিত
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ, তালিকা দেখুন এখানে
- ইপিএস প্রকাশ করেছে তিন কোম্পানি
- ঢাবি 'বি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, যেভাবে দেখবেন
- অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেশেয়ারবাজার
- রংপুর রাইডার্স বনাম সিলেট টাইটান্সের জমজমাট খেলাটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ইপিএস প্রকাশ করবে ১৮ কোম্পানি
- সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শীতবস্ত্র বিতরণ
- ইপিএস-ডিভিডেন্ড প্রকাশ করবে ১৮ কোম্পানি
- শেয়ারবাজারে সূচক হ্রাস, বিনিয়োগকারীদের মনোবল অক্ষুণ্ণ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এপেক্স ট্যানারি
- তবে কি শেষ বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা?