ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
নীলফামারীতে ১০০০ শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক: উত্তরাঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় এই মেগা প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত এই প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৪৫৯.৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিবে ১৭৯.২৭ কোটি টাকা এবং বাকি সিংহভাগ অর্থই চীন সরকারের অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর ২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।
গত বছরের মার্চে চীন সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের কাছে বাংলাদেশে একটি উন্নত হাসপাতাল স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সেই অনুরোধের প্রেক্ষিতেই দ্রুততম সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীলফামারী সদর উপজেলায় একটি আধুনিক ১০ তলা প্রধান হাসপাতাল ভবনসহ চিকিৎসক-নার্সদের আবাসিক ভবন, ডরমেটরি এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
এই হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নেফ্রোলজি (কিডনি), কার্ডিওলজি (হৃদরোগ), অনকোলজি (ক্যান্সার) ও নিউরোলজির মতো বিশেষায়িত বিভাগ থাকবে। এছাড়া আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিইউ এবং উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধাসহ অপারেশন থিয়েটার থাকবে। হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য প্রায় ৮৯৩ জন চিকিৎসক, ১,১৯৭ জন নার্স এবং ১,৪১০ জন অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
একনেক সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই হাসপাতালটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে আর জটিল রোগের জন্য রংপুর বা ঢাকায় ছুটতে হবে না। এমনকি এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিণত হবে, যেখানে নেপাল ও ভুটানের রোগীরাও উন্নত চিকিৎসা পাবেন।”
বর্তমানে নীলফামারী জেলায় প্রায় ২১ লক্ষ মানুষের বসবাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী যেখানে ৪,৫০০–৬,০০০ শয্যা প্রয়োজন, সেখানে জেলা সদর ও উপজেলা মিলিয়ে শয্যা সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। বর্তমানে মানুষ মূলত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। নতুন এই ১০০০ শয্যার হাসপাতালটি নির্মিত হলে নীলফামারীসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোগান্তি ও ব্যয় কমবে।
এসপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত
- শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান