ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
একাত্তরের সাক্ষী সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা ও পাকিস্তানি সামরিক জান্তার নিষ্ঠুরতার চিত্র বিশ্বদরবারে তুলে ধরা ব্রিটিশ সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই। রোববার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি সাংবাদিক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
বিবিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিকের কণ্ঠস্বর কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে ছিল অনন্য ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতীক। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কিংবা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড—সব ধরনের সংকটময় পরিস্থিতি গভীর দক্ষতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করতেন তিনি।
১৯৩৫ সালে কলকাতায় জন্ম নেওয়া মার্ক টালির শৈশব কেটেছে ভারতীয় উপমহাদেশের পরিবেশে। তার বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী এবং মা পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণকারী এক পরিবারের সন্তান, যাদের পূর্বপুরুষেরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শৈশবে এক ব্রিটিশ আয়ার তত্ত্বাবধানে বড় হন টালি। সেই আয়া একবার তাকে গাড়িচালকের কাছ থেকে হিন্দিতে সংখ্যা শেখার কারণে তিরস্কার করে বলেছিলেন—‘এ ভাষা চাকরদের, তোমার নয়।’
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই হিন্দি ভাষাই হয়ে ওঠে মার্ক টালির অন্যতম শক্তি। দিল্লিতে কর্মরত বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে সাবলীল হিন্দি জানা ছিল বিরল, যা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় করে তোলে। ভারতজুড়ে তিনি পরিচিত ছিলেন স্নেহের নামেই—‘টালি সাহেব’।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ৯ বছর বয়সে পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তিনি। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস ও ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন শেষে যাজক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে থিওলজিক্যাল কলেজে ভর্তি হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
১৯৬৫ সালে বিবিসির হয়ে ভারতে ফেরেন মার্ক টালি। প্রথমে প্রশাসনিক সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সাংবাদিকতায় যুক্ত হন এবং নিজস্ব উপস্থাপনাভঙ্গির জন্য আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের এপ্রিলে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করেন। ঢাকা থেকে সড়কপথে রাজশাহী সফর করেন টালি। পাকিস্তান সরকার সে সময় মাত্র দুইজন বিদেশি সাংবাদিককে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল—অপরজন ছিলেন ব্রিটিশ টেলিগ্রাফের সাংবাদিক ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টালি বলেছিলেন, পাকিস্তানি সেনারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে মনে করেই সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়। স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ পেয়ে তারা বুঝতে পারেন, কী ভয়াবহ গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে তিনি দেখেছিলেন, গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে প্রদান করে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জেনে নিন
- মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
- এইচএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল কবে, জানাল বোর্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (০৩ নভেম্বর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (০১ নভেম্বর)
- পুলিশের ৭৮ পরিদর্শক পদোন্নতি পেয়ে হলেন এএসপি
- বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা কি পেছাচ্ছে?
- সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার্থীদের ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে যা জানা গেল
- যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণীর সঙ্গে যৌন বিকৃতির অভিযোগে সাবেক শিবির নেতা গ্রেপ্তার
- বাংলাদেশের জলবায়ু অগ্রাধিকার তুলে ধরতে তুরস্ক যাচ্ছে YFB-এর প্রতিনিধিদল
- ঢাবির ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
- প্রবাসীর সন্তানেরা পাবে শিক্ষাবৃত্তি, জানুন আবেদন পদ্ধতি
- ফের স্বর্ণের দাম বেড়েছে, ভরিতে কত?
- আজকের খেলার সময়সূচি (০১ নভেম্বর)
- ২০২৭ সালে সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ