ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২

৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ১৫:৫২:৪৩

৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশোধনীসহ ২৫টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ, বৈদেশিক ঋণের ৩২ হাজার ৯৮ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিস উন্নয়ন, আড়িয়ার খাঁ বিল এলাকার জীবনমান উন্নয়ন, চট্টগ্রাম ও পারকিতে পর্যটন কেন্দ্রের সুবিধা বৃদ্ধি, কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন। এছাড়া পদ্মা ও মহানন্দা নদীর ভাঙন রোধ, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা, স্মলহোল্ডার কৃষি উন্নয়ন এবং আশুগঞ্জ-পলাশ সবুজ প্রকল্প।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বেশ কিছু প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। নীলফামারীতে চীনা অনুদানে ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল, শিশুদের বিকল্প শিক্ষা, সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও কলেজ স্থাপন, ৬৪ জেলায় যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ এবং দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় ও পুলিশের বিভিন্ন ফাঁড়ি, ক্যাম্প ও নৌপুলিশ কেন্দ্র উন্নয়নের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, চলমান প্রকল্পগুলো প্রতি তিন মাস অন্তর মূল্যায়ন করা হবে। যারা সময়মতো প্রকল্প শেষ করতে ব্যর্থ হবে, তাদের বরাদ্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া স্থানীয় জনগণও প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

নীলফামারীতে নির্মিত হাসপাতালের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলাটি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। এখানে হাসপাতাল হলে আশেপাশের দেশ থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসবেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ডলারে ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি হয়নি, কিন্তু টাকায় বৃদ্ধি বেশি মনে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ক্লিন এয়ার প্রকল্প অনুমোদিত হয়নি। কারণ এটি মূলত পরিবেশ দূষণ পরিমাপ করবে, যা কমানো জরুরি। তাই সামাজিক খাতে বৈদেশিক ঋণ কম ব্যবহার করা হবে, এবং বিনিয়োগ বেশি হওয়া প্রকল্পগুলিতে ঋণ নেওয়া হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত