ঢাকা, সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি

২০২৬ জানুয়ারি ২৬ ১০:৫৩:৩৭

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা ও আইনি কার্যধারা থেকে সুরক্ষা দিতে রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছেন। এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা দায়েরের পথও বন্ধ করা হয়েছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ রোববার রাতে অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করে। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছিল।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার কারণে কারও বিরুদ্ধে যদি আগে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা শুরু হয়ে থাকে, তাহলে তা প্রত্যাহারযোগ্য হবে। একইসঙ্গে এ বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের আইনত গ্রহণযোগ্য হবে না।

অধ্যাদেশের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটাতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়, যা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়। ওই সময়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে সংঘটিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র হামলা প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষায় আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

এ প্রেক্ষাপটে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুরক্ষা প্রদান জরুরি বিবেচনায় এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে মামলা থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়ন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। আবেদন গ্রহণের পর আদালত ওই মামলা বা কার্যধারায় আর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করবে না এবং মামলা প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।

তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত কোনো হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। এ ক্ষেত্রে নিহত ব্যক্তি যদি পুলিশ বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হন, তাহলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীতে কর্মরত বা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।

তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে মানবাধিকার কমিশনের পূর্বানুমোদন নিতে হবে বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে।

কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে, অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংঘটিত অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদনের মতো বিবেচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

আর যদি তদন্তে দেখা যায় যে অভিযোগে উল্লিখিত কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেক্ষেত্রে কমিশন উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ সরকারকে দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আদালতে পৃথক কোনো মামলা বা অন্য আইনি কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না।

অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে সরকার বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত