ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

পরিবার নিয়ে ইউরোপে পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে যে ৫ দেশ

পার্থ হক
পার্থ হক

রিপোর্টার

২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৬:১৮:২৮

পরিবার নিয়ে ইউরোপে পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে যে ৫ দেশ

পার্থ হক: বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন মানেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা এমন ধারণা এখন আর পুরোপুরি সত্য নয়। ইউরোপের একাধিক দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এমন নীতিমালা চালু রেখেছে, যেখানে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে স্ত্রী বা স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে বসবাস ও পড়াশোনা করা সম্ভব। পরিবারসহ স্থায়ী ও নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ থাকায় এসব দেশ দিন দিন শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। নিচে এমন পাঁচটি ইউরোপীয় দেশের কথা তুলে ধরা হলো, যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবার নিয়ে থাকা বৈধ ও বাস্তবসম্মত।

১. নেদারল্যান্ডস

নেদারল্যান্ডসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পারিবারিক পুনর্মিলনের মাধ্যমে স্ত্রী বা স্বামী ও সন্তানদের সঙ্গে নেওয়ার আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নির্ভরশীলদের ভরণপোষণের আর্থিক সামর্থ্য দেখাতে হয়। উন্নত জীবনমান, নিরাপদ পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা পরিবারসহ বসবাসের ক্ষেত্রে দেশটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

২. ফিনল্যান্ড

পরিবারবান্ধব দেশ হিসেবে ফিনল্যান্ডের সুনাম বিশ্বজুড়ে। এখানে রেসিডেন্স পারমিটধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনার জন্য আবেদন করতে পারেন। জীবনসঙ্গীরা পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পান এবং সন্তানেরা ফিনল্যান্ডের মানসম্মত সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় পড়াশোনার সুযোগ লাভ করে।

৩. সুইডেন

পড়াশোনার সময় পরিবারকে সঙ্গে রাখার সুযোগ সুইডেনেও রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। অনুমোদনের পর জীবনসঙ্গীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পান এবং সন্তানেরা সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে পরিবারসহ স্থিতিশীল জীবন গড়ে তোলা সহজ হয়।

৪. জার্মানি

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জার্মানির ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন ব্যবস্থা বেশ সুসংগঠিত। শিক্ষার্থীরা তাদের স্ত্রী বা স্বামী এবং সন্তানদের সঙ্গে নেওয়ার আবেদন করতে পারেন। এর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা ও উপযুক্ত আবাসনের প্রমাণ দিতে হয়। অনুমোদন পেলে জীবনসঙ্গীরা কাজ করার সুযোগ পান এবং সন্তানেরা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে পারে।

৫. ফ্রান্স

দীর্ঘমেয়াদি স্টাডি ভিসাধারী শিক্ষার্থীরা ফ্রান্সে পরিবার পুনর্মিলনের আবেদন করতে পারেন। সন্তানেরা সরকারি স্কুলে পড়ার সুযোগ পায় এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জীবনসঙ্গীরা কাজের অনুমতি পান। ফলে পরিবার নিয়ে ইউরোপে পড়াশোনা করতে আগ্রহীদের জন্য ফ্রান্স একটি কার্যকর বিকল্প।

সব মিলিয়ে, ইউরোপের এসব দেশ প্রমাণ করছে যে উচ্চশিক্ষা ও পারিবারিক জীবন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও নীতিমালা অনুসরণ করলে পরিবারসহ বিদেশে পড়াশোনার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি দেশের ভিসা ও পরিবার পুনর্মিলন নীতিমালা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর থেকে হালনাগাদ তথ্য যাচাই করা জরুরি। সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতি থাকলে পরিবারসহ ইউরোপে পড়াশোনার যাত্রা হতে পারে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও দীর্ঘমেয়াদে ফলপ্রসূ।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত