ঢাকা, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

নতুন নীতিমালায় অধ্যক্ষ-প্রধান হতে লাগবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা

২০২৬ মার্চ ১১ ১১:২১:১৭

নতুন নীতিমালায় অধ্যক্ষ-প্রধান হতে লাগবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন কঠোর শর্ত আরোপ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব পদে আবেদন করতে হলে কমপক্ষে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর সংশোধিত অংশে অভিজ্ঞতা ও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসংক্রান্ত শর্ত পরিবর্তন করে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের অধ্যক্ষ কিংবা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে হলে এমপিওভুক্ত হিসেবে কর্মরত থাকতে হবে এবং প্রভাষক, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক পদে মিলিয়ে মোট ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার ক্ষেত্রেও একই অভিজ্ঞতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত প্রভাষক (সাধারণ), জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক (সাধারণ) পদে মিলিয়ে কমপক্ষে ১৮ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

বর্তমানে কর্মরত প্রধান শিক্ষক বা সহকারী প্রধান শিক্ষক যদি অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে চান, তবে তাদের জন্যও আলাদা শর্ত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালার শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইনডেক্সধারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা এবং এমপিওভুক্ত পদে মোট ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

অন্যদিকে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইনডেক্সধারী সহকারী প্রধান শিক্ষক বা নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অধ্যক্ষ পদে আবেদন করতে হলে তিন বছরের ইনডেক্সধারী অভিজ্ঞতাসহ এমপিওভুক্ত পদে সর্বমোট ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ১৮ বছর নির্ধারণ করায় বর্তমান আবেদনকারীদের প্রায় অর্ধেক এই শর্ত পূরণ করতে পারবেন না। ফলে তাদের আবেদন বাতিল করতে হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে যেসব আবেদনকারী নতুন শর্তে অযোগ্য হয়ে পড়বেন, তাদের আবেদন ফি ফেরত দেওয়া এবং নতুন করে আবেদন গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে বিদ্যমান আবেদন থেকেই পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আবেদনকৃত প্রার্থীদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা সম্ভাব্য দুটি বিষয় সামনে নিয়ে কাজ করছি। প্রথমটি হলো- চলমান আবেদনের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়া। আর দ্বিতীয়টি হলো-নতুন করে আবেদন নেওয়া। এই দুটির যে কোনো একটি চূড়ান্ত করে সামনে আগানো হবে। শিগগিরই বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।’

এর আগে মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বৈঠকে ম্যানেজিং কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে অভিজ্ঞতার শর্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদের এসব পদে নিয়োগ দিলে প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই অভিজ্ঞতার শর্ত বাড়ানো হয়েছে। আগে ১২ বা ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই আবেদন করা যেত, ফলে অপেক্ষাকৃত তরুণ শিক্ষকদের আবেদন বেশি ছিল।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত