ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ

২০২৬ জুন ১৬ ১১:৪৯:১৭

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির পক্ষে শুনানি পরিচালনার জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ জন্য একজন ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ দিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি ওই বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং তাদের জেল আপিলের শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় পেপার বুক প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে যেকোনো দিন মামলাটির শুনানি শুরু হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিজি প্রেসে প্রস্তুত করা পেপার বুক ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ জুন দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের স্বাক্ষরের পর ডেথ রেফারেন্সটি উচ্চ আদালতে আসে।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এ প্রক্রিয়াকেই ডেথ রেফারেন্স বলা হয়।

গত ৭ জুন ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় উভয় আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, এই অর্থ ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া সোহেল রানা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছেন বলেও আদালত মনে করেন। অপরদিকে স্বপ্না আক্তার স্বামীকে পালাতে সহায়তা করেছেন এবং অপরাধ প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা পালন করেননি বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত