ঢাকা, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়: আমীর খসরু
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনীতিবিদদের মূল দায়িত্ব দেশের জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপন করা। যদি রাজনৈতিক নেতৃত্ব জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তাহলে দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই আস্থা কেবল নির্বাচনী প্রচারণা বা প্রতিশ্রুতিপত্রে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বাস্তবায়ন এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত “জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা” শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আমীর খসরু বলেন, দেশের নাগরিক সমাজ, এনজিও, বেসরকারি খাত এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে অংশীদারিত্ব ছাড়া জাতীয় সমস্যা সমাধান এবং নীতি বাস্তবায়ন কার্যকরভাবে সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পার্লামেন্টের বাইরে সিভিল সোসাইটি, এনজিও ও জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সরকার প্রকৃত জবাবদিহিতা এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে জবাবদিহিতার অভাব এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ সমস্যা দেখা দিয়েছে। রাজনীতিবিদরা যত বেশি জবাবদিহিতার আওতায় থাকবেন, দেশ তত বেশি গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী হবে। সরকার ও রাজনৈতিক দলকে পার্লামেন্টারি কমিটি, সিভিল সোসাইটি এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহার কেবল প্রতিশ্রুতির কাগজে সীমাবদ্ধ থাকলে জনগণের আস্থা তৈরি হবে না; বাস্তবায়ন এবং ফলপ্রসূ জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, নতুন সরকার প্রথম এক বা দুই বছর একটি হানিমুন পিরিয়ডে থাকে। তখন আলোচনা ও নীতি নির্ধারণের কাজ সুষ্ঠুভাবে হয়। কিন্তু এরপর তা ধীরে ধীরে ব্যর্থ হতে থাকে এবং জনগণের আস্থা ক্ষয় পায়। এই সমস্যা এড়াতে পার্লামেন্টারি কমিটি ও নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। রাজনৈতিক দল ও নেতা-নেত্রীদের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সরকার দায়িত্বশীল ও জবাবদিহি নিশ্চিত থাকে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ব্যবসায়ী সমাজ, শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে সেমিনার ও পরামর্শ সভার মাধ্যমে মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার ও রাজনৈতিক দল নীতি বাস্তবায়নের কার্যকারিতা যাচাই করতে পারে। জনগণকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং মতামত নথিভুক্ত করা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে এবং দেশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের নিজেদের উদ্যোগেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। কেউ তাদের জন্য এটি করে দিতে পারবে না। রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা যত বেশি শক্তিশালী হবে, দেশ তত বেশি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল হবে। সব রাজনৈতিক দলকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইবতেদায়ি বৃত্তির ফল প্রকাশ: মোট বৃত্তি পেল ১১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- প্রকাশিত হলো ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল, দেখুন এখানে
- বাংলাদেশ বনাম চীনের ফুটবল ম্যাচ: কবে, কখন, কোথায়-জানুন সময়সূচি
- পুলিশে ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ: আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়মাবলী
- বাংলাদেশ বনাম চীন ফুটবল ম্যাচ: জেনে নিন ফলাফল
- বিক্রিতে ধস, অথচ শেয়ার দরে উল্লম্ফন: জি কিউ বলপেনের রহস্য কী?
- সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে ঢাবির যুগান্তকারী ‘লস রিকভারি প্ল্যান’
- হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঢাকা
- ডুসাসের নেতৃত্বে জিসান-সাবরিন
- উৎপাদন বন্ধ থাকায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামল তালিকাভুক্ত কোম্পানি
- মারা যাওয়ার আগে কী বার্তা দিলেন জাহের আলভীর স্ত্রী?
- একই কক্ষপথে যাত্রা, এক বছর পর তিন মেরুতে তিন কোম্পানি
- জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করল সরকার
- আতঙ্ক কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই, সূচকের বড় লাফ