ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
খালেদা জিয়ার গাড়িবহর হামলার আসামি নিয়ে যুবদল কমিটি বিলুপ্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক: ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করার ঘটনায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং কেন্দ্রীয় যুবদল দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীর স্বাক্ষরে পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, তিনি ২০১৭ সালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি।
এ ঘটনায় ২ মে ঘোষিত কমিটির ৬ জন পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন, সহ-সভাপতি মো. সবুজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিল্লাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহিদ, প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন রুবেল ও দপ্তর সম্পাদক ডালিম মজুমদার।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কেন্দ্রীয় যুবদল ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করে এবং একই সঙ্গে ঘোষিত ১২টি ওয়ার্ড কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এছাড়া অভিযুক্ত গাজী এনামুল হক সুজনকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পৌর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সামনে হাজির হতে হবে। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৮ জনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে এনামুল হক সুজন ২৫ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে।
ঘটনার পর পদত্যাগ করা নেতা গাজী আবদুল কাদের নয়ন দাবি করেন, বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তাই তারা পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সুজন দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধের ফল। তার ভাষায়, ঘটনাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পূর্ববর্তী বিরোধের জেরে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, মামলাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে করা হয়েছে এবং বিষয়টি আগেই দলীয় পর্যায়ে অবহিত ছিল।
জেলা যুবদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক মো. আল ইমরান জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেনী পৌর যুবদলের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে, ওয়ার্ড কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে শোকজ করা হয়েছে। ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের কোচ ট্রিপ অনুষ্ঠিত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- বিইউপিতে ২৯ পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
- খণ্ডকালীন শিক্ষক নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জানুন আবেদনপদ্ধতি
- নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে বেতন-ভাতা
- চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনায় পিংক বাস
- নোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষকের বেতন বন্ধ
- দিনে তিনবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখার নির্দেশ
- নারীদের চোখে পুরুষের যে ৫ শখ বেশি আকর্ষণীয়
- শিক্ষকদের পদোন্নতি পারফরম্যান্স অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া হবে: ববি হাজ্জাজ
- জানুয়ারিতে ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন
- শুরু হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি আবেদন
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের ভাইভা নিয়ে যা জানা গেল