ঢাকা, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
জেনে নিন পৃথিবীর সবচেয়ে বিরল রক্তের রহস্য
ডুয়া ডেস্ক: বিশ্বের মাত্র কয়েকজন মানুষের রক্তের ধরন বিরল প্রায় প্রতি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে একজনের শরীরে পাওয়া যায় এই রক্ত। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই বিরল রক্ত ল্যাবরেটরিতে তৈরি করে মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
রক্তদান ও রক্ত সঞ্চালন আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের সার্জারির সময় অন্য কারো রক্ত রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে। তবে প্রতিটি রোগী এই সুবিধা ভোগ করতে পারে না, কারণ রক্তের ধরন সবসময় মিল নাও করতে পারে।
বিশেষ করে যারা আরএইচ ফ্যাক্টরবিহীন (আরএইচ নাল) রক্ত রাখেন, তাদের জন্য উপযুক্ত রক্ত পাওয়া অত্যন্ত সীমিত। পৃথিবীতে বর্তমানে মাত্র প্রায় ৫০ জনের শরীরে এই রক্ত শনাক্ত হয়েছে। যারা এই রক্তের মালিক, তারা যদি দুর্ঘটনার শিকার হন, তাদের জন্য রক্তের সন্ধান প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। তাই এই বিরল রক্তের দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ হয় লাল রক্তকণিকার অ্যান্টিজেনের ভিত্তিতে। এ, বি, এবি ও ও এই চারটি প্রধান গ্রুপ রয়েছে। এ গ্রুপে শুধু এ অ্যান্টিজেন, বি গ্রুপে শুধু বি অ্যান্টিজেন, এবি গ্রুপে দুটোই থাকে, আর ও গ্রুপে কোনোটি থাকে না। প্রতিটি গ্রুপ আবার আরএইচ পজিটিভ বা নেগেটিভ হতে পারে। ও নেগেটিভ রক্তকে প্রায়শই ইউনিভার্সাল ডোনার বলা হয়।
বর্তমান জ্ঞানের ভিত্তিতে, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৪৭টি স্বীকৃত রক্তের গ্রুপ এবং ৩৬৬টি ভিন্ন অ্যান্টিজেন চিহ্নিত হয়েছে। তাই কেউ ও নেগেটিভ রক্ত গ্রহণ করলেও অন্য অ্যান্টিজেনের কারণে ইমিউন প্রতিক্রিয়া ঘটতে পারে। আরএইচ ফ্যাক্টরবিহীন রক্তের ক্ষেত্রে এই সমস্যা নেই, তাই এটি সবচেয়ে বহুমুখী এবং জরুরি অবস্থায় ব্যবহারযোগ্য।
আরএইচ নাল রক্তের উৎপত্তি জিনগত পরিবর্তনের কারণে ঘটে। ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর টোয়ে ও তার দল ২০১৮ সালে ল্যাবরেটরিতে এই রক্তের অনুকরণ তৈরি করতে সক্ষম হন। তারা সিআরআইএসপিআর-সিএএস৯ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঁচটি প্রধান অ্যান্টিজেনের কোডিং জিন নিষ্ক্রিয় করেন। এতে তৈরি রক্ত সাধারণ ও বিরল রক্তের সঙ্গে সমন্বয়পূর্ণ হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন গবেষক এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরএইচ নালসহ অন্যান্য বিরল রক্তের গ্রুপ ল্যাবরেটরিতে তৈরি করার চেষ্টা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও স্পেনের গবেষকরা স্টেম সেল থেকে কাস্টমাইজড রক্ত উৎপাদনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এখনও এত পরিমাণে রক্ত তৈরি করা সম্ভব নয় যা মানুষের জন্য সরাসরি ব্যবহারযোগ্য।
ল্যাবরেটরিতে রক্তকণিকা তৈরি করা কঠিন, কারণ হাড়ের মজ্জা স্বাভাবিকভাবে জটিল সংকেত পাঠিয়ে লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন করে। আরএইচ নাল বা অন্যান্য বিরল রক্তের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে যায়। তবে গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে ল্যাব-উৎপাদিত রক্ত সংরক্ষণ করে জরুরি অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে।
প্রফেসর টোয়ে বলেন, “যেসব মানুষের রক্ত বিরল এবং তাদের জন্য মিলযুক্ত ডোনার সীমিত, তাদের জন্য যদি আমরা আরও রক্ত উৎপাদন করতে পারি, তা সত্যিই বিপ্লবী হবে। তবে সামনের দিনেও রক্তদাতাদের প্রয়োজন থাকবে।”
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান: ম্যাচটি সরাসরি(LIVE) দেখুন এখানে
- বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড ২য় T-20: খেলাটি সরাসরি(LIVE) দেখুন এখানে
- চলছে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ২য় টেস্ট: খেলাটি সরাসরি দেখুন এখানে
- বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড: টি-২০ ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড টি-২০ ম্যাচ: কবে, কখন, কোথায়-যেভাবে দেখবেন
- বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড ২য় টি-টোয়েন্টি: কবে, কোথায়, কখন-দেখুন সময়সূচি
- শুক্রবার গ্যাসের চাপ কম থাকবে যেসব এলাকায়
- কিছুক্ষণ পর বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড ২য় T-20-সরাসরি দেখার উপায়
- ঢাবির শীতকালীন ছুটিনিয়ে যা জানা গেল
- বাংলাদেশ বনাম আয়ারল্যান্ড: ব্যাটিংয়ে আয়ারল্যান্ড, দেখুন স্কোর-LIVE
- বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন তথ্য বিএমডির
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
- ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা: চাপে ভারত-খেলাটি সরাসরি(LIVE) দেখুন
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া: দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু-দেখুন ফলাফল-LIVE
- বাংলাদেশ বনাম মালয়েশিয়া: ফুটবল ম্যাচটি সরাসরি দেখুন(LIVE)