ঢাকা, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২
ডিভিডেন্ডের আগে ওরিয়ন ইনফিউশনের 'প্যানিক সেল'!
হাসান মাহমুদ ফারাবী
রিপোর্টার
হাসান মাহমুদ ফারাবী: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশন লিমিটেড-এর শেয়ারে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হঠাৎ করেই বড় পতন দেখা গেছে। দিনের লেনদেন শেষে কোম্পানিটি ছিল দরপতনের শীর্ষ তালিকায়। শুধু তাই নয়, বিপুল পরিমাণ লেনদেনের কারণে এটি লেনদেনের শীর্ষ তালিকায়ও স্থান দখল করে নিয়েছে, যা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
ওরিয়ন ইনফিউশন-এর শেয়ার আজ বৃহস্পতিবার ৪.৪৮ শতাংশ বা ২২ টাকা ৭০ পয়সা দর হারিয়েছে এবং দিন শেষে এর সর্বশেষ লেনদেন মূল্য ছিল ৪৮৩ টাকা ৬০ পয়সা। এর বিপরীতে, আজকের বাজারে কোম্পানিটির মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার ৯৩৫টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৩১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। বাজারে যখন এই শেয়ারটির দরপতন ঘটছে, ঠিক তখনই বিপুল পরিমাণ লেনদেন হওয়াকে বিনিয়োগকারীরা 'প্যানিক সেল' বা আতঙ্কিত বিক্রি হিসেবে দেখছেন।
আর্থিক সূচক বিবেচনায় এই পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ কোম্পানিটি সাধারণত অত্যন্ত উচ্চ মূল্যায়নে শেয়ারবাজারে লেনদেন হয়ে থাকে। আজ পতন সত্ত্বেও এর মূল্য আয় অনুপাত (পিই) ছিল ২৫৮.৬১ গুণ, যা শিল্প গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।
বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, কোম্পানিটির ৩০ জুন অর্থবছর শেষ হয়েছে এবং যেকোনো দিন পরিচালনা পর্ষদ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে পারে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে যখন বিনিয়োগকারীরা ভালো ডিভিডেন্ডের প্রত্যাশা করছিলেন, ঠিক তখনই শেয়ারটির বড় দরপতন ঘটল। বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, কোম্পানিটি মূলধন বাড়ানোর জন্য রাইট শেয়ার ঘোষণার একটি প্রস্তাব বিএসইতে জমা হয়েছে। অনেকদিন হয়েগেলেও এ বিষয়ে বিএসইসির কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আজকের পড় পতনের এটিও একটি কারণ হতে পারে। যার আভাস পেয়ে কিছু বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শেয়ারটির গত এক বছরে মূল্য বেড়েছিল ১০৩ শতাংশ। অর্থাৎ এটি মূলত একটি স্পেচুলেটিভ (Speculative) শেয়ার, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি অন্যতম জনপ্রিয় শেয়ার হিসাবে বিবেচিত। আজকের পতনকে কিছু বিনিয়োগকারী এই উচ্চ মুনাফা তুলে নেওয়ার কৌশল বা 'প্রফিট বুকিং' হিসেবে দেখছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আজকের বাজারে ওরিয়ন ইনফিউশন-এর পারফরম্যান্স ছিল এক মিশ্র বার্তা। একদিকে, এর বড় দরপতন এবং অন্যদিকে বিপুল লেনদেন—এই দুই-ই প্রমাণ করে যে, কোম্পানিটিকে ঘিরে বাজারের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা এখন চরমে। বিনিয়োগকারীদের তাই ডিভিডেন্ড ঘোষণা এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৩ ফেব্রুয়ারি)
- ঢাবির ১৯ শিক্ষার্থী পেলেন ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: জেনে নিন সরাসরি দেখার উপায়
- দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিম চালু
- কে এই কু'খ্যাত জেফ্রি এপস্টেইন?
- গ্রামীণফোনের ২১৫ শতাংশ ফাইনাল ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- টানা ৫ দিনের ছুটি পাচ্ছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- ঢাবির 'বি' ইউনিটের পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, পরিবর্তন ৮ জনের
- এক নজরে দেখে নিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিবর্তিত সময়সূচি
- বিমস্টেকও ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর মধ্যে বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন
- সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ ফাইনাল: ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল জানুন
- উপবৃত্তিতে বড় পরিবর্তন, খুলল নতুন সুযোগ