ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
কেন ডুবছে দেশের শেয়ারবাজার? বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের রক্তক্ষরণ
মোবারক হোসেন
রিপোর্টার
মোবারক হোসেন: ইবিএল সিকিউরিটিজ-এর সাপ্তাহিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ঢাকা শেয়ারবাজার-এর প্রধান সূচক আরও বড় পতন দেখেছে, যা বাজারের দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। মূলত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণেই এই পতন। এরফলে, টানা দরপতন এবং চরম মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যার কারণে প্রধান সূচকটি তিন মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে। কোনো আশাবাদী বার্তা বা ইতিবাচক প্রভাবক না থাকায় বাজার কার্যত স্থবির।
সূচক ও লেনদেনে তীব্র পতন
সপ্তাহ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ১৬৪.৩০ পয়েন্ট বা ৩.১ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১১৯ পয়েন্টে স্থির হয়েছে। এই বিপুল পতন গত কয়েক সপ্তাহের মন্দা পরিস্থিতিকে আরও গভীর করেছে। একই সঙ্গে, ইবিএল সিকিউরিটিজ-এর তথ্য অনুযায়ী, বাজারে গড় লেনদেনের পরিমাণও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। সাপ্তাহিক গড় লেনদেন ২০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫২২ কোটি ২০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে ধারাবাহিক দুর্বলতা তুলে ধরছে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার ফল
বাজারের এমন গভীর পতনের প্রধান কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা। তীব্র আস্থার অভাবে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত শেয়ার বিক্রির প্রবণতা শুরু করেন। এর ফলে জেনারেল ইন্স্যুরেন্স খাত (২.৪ শতাংশ ধনাত্মক রিটার্ন) বাদে বাকি প্রায় সব খাতেই বিনিয়োগকারীরা লোকসান গুনেছেন। এই **'একলা চলা নীতি'**তে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে জুট (পাট) খাত, যেখানে দরপতনের হার ছিল ১২.৪ শতাংশ।
ঝুঁকি এড়িয়ে তিন খাতে মনোযোগ
বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কম থাকলেও, যে সীমিত সংখ্যক লেনদেন হয়েছে, তাতে ঝুঁকি এড়িয়ে কিছু নির্দিষ্ট খাতেই আগ্রহ দেখা গেছে। লেনদেনের মোট মূল্যের ভিত্তিতে শীর্ষে ছিল জেনারেল ইন্স্যুরেন্স খাত (১২.৯ শতাংশ), এরপর ঔষধ ও রসায়ন খাত (১১.৪ শতাংশ) এবং বস্ত্র খাত (১১.০ শতাংশ)। এই খাতগুলোতে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বা আকর্ষণীয় মূল্যস্তর থাকায় সাময়িকভাবে বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ আকৃষ্ট হয়েছে। তবে, এই নির্বাচিত ক্রয়াদেশ (selective buying) বাজারের মূল ধারাকে পরিবর্তন করতে পারেনি।
সমাধান কোথায়?
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা দূর না হওয়া পর্যন্ত শেয়ারবাজার-এর এই পতনের ধারা সহজে থামবে না। যতক্ষণ না পরিবেশ শান্ত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা নিজেদের পুঁজি তুলে নেওয়া বা অপেক্ষা করার নীতি অনুসরণ করবেন। বাজারকে টেনে তোলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর অর্থনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন জেমস
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- শতবর্ষী ৮০৮ স্কুল-কলেজের তালিকা করল মাউশি
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- ঢাবিতে ৮ম কুইজ ফেস্ট ও ফ্রেশার্স রিসেপশন অনুষ্ঠিত
- আত্মহ/ত্যার আগে যা লিখেছিলেন এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী
- নতুন পে স্কেলের বাইরে থাকছেন যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
- আবারও লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের