ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

যে মসজিদে ৮৫ বছর পর আবারও আজানের ধ্বনি

ডুয়া নিউজ- আন্তর্জাতিক
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১২:০০:২৮
যে মসজিদে ৮৫ বছর পর আবারও আজানের ধ্বনি

দীর্ঘ ৮৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও আজানের সুমধুর ধ্বনিতে মুখরিত হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কুপ্রেস পৌরসভার ঐতিহাসিক রাভনো মসজিদ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে ধ্বংসপ্রাপ্ত এ মসজিদটি বহু বছর ধরে ছিল একটি নিঃসঙ্গ স্মারক, যা নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছিল যুদ্ধের ভয়াবহতার ও মুসলিম ঐতিহ্যের হারিয়ে যাওয়ার।

১৯৩৯-৪৫ সালের বিশ্বযুদ্ধে পাথরের তৈরি গম্বুজ ও দেয়াল বিধ্বস্ত হয়, মিনারটি নিশ্চুপ হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে এটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। তবে স্থানীয় মুসলমানদের অবিরাম প্রচেষ্টা ও অনড় আস্থায় এই নিস্তব্ধতা অবশেষে ভেঙে যাচ্ছে।

২০২৪ সালের ১৭ মে, বহু প্রতীক্ষিত পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের সূচনা হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান। শুরু থেকেই এই উদ্যোগে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সরকারি সংস্থা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, পৌরসভা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের উদার দাতা। এমনকি ক্রোয়েশিয়া ও মন্টিনেগ্রোর মুসলিম সম্প্রদায়ও এই মহৎ উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।

সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাভনো মসজিদ আজ আবারও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত কাঠামো থেকে পুনরায় একটি পূর্ণাঙ্গ উপাসনালয়ে রূপান্তরিত হওয়া—এ যেন শুধু একটি ভবনের নয়, বরং পুরো একটি মুসলিম সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয় ও আস্থার জাগরণ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ইসলামিক কমিউনিটির চেয়ারম্যান ড. হুসেইন কাভাজোভিচ। তার কণ্ঠে আজানের ধ্বনি যখন রাভনোর আকাশে প্রতিধ্বনিত হবে, তখন তা শুধু নামাজের আহ্বান নয়, বরং একটি দীর্ঘ সময়ের নীরবতার অবসান এবং ঈমানের শক্তিতে গড়া অটুট প্রত্যয় প্রকাশ করবে।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি তাঁদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় পরিচয় ও জাতিগত ঐক্যের প্রতীক। বহু বছরের নিঃশব্দতাকে ভেঙে আজ মিনার থেকে যখন ধ্বনিত হবে ‘আল্লাহু আকবার’, তখন তা হবে বিশ্বাস, ধৈর্য ও ঐক্যের জয়ের প্রতিচ্ছবি।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত