ঢাকা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানের হামলায় ধ্বংস যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ কোটি ডলারের রাডার

২০২৬ মার্চ ০৭ ১৭:৪৯:০৬

ইরানের হামলায় ধ্বংস যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ কোটি ডলারের রাডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি উঠেছে। প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের এই রাডার ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিএনএন বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, যুদ্ধের শুরুর দিকে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত আরটিএক্স করপোরেশনের এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাটারি ও সহায়ক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।

পরে মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা ওই রাডার ব্যবস্থাটি ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বজুড়ে মোট আটটি থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামেও এমন ব্যবস্থা মোতায়েন আছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি থাড ব্যাটারির মূল্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কেবল রাডার ব্যবস্থাটির মূল্যই প্রায় ৩০ কোটি ডলার।

এদিকে ইরান দাবি করেছে, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আঞ্চলিক সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করার প্রেক্ষাপটে শনিবার ইরানের সেনাবাহিনী এই দাবি জানায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা দেশটির সেনাবাহিনীর বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানায়, ইরানি নৌবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের অধিকৃত ভূখণ্ডে বড় পরিসরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শনিবারের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ঘাঁটি, কুয়েতের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের একটি কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

পরে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতেও তারা হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, হামলায় মার্কিন বাহিনীর আকাশযুদ্ধ পরিচালনা কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং ফায়ার কন্ট্রোল রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই ইরান ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত