ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বিধ্বংসী হামলা

২০২৬ মার্চ ০১ ১১:৪০:১৪

২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বিধ্বংসী হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এখন মার্কিন বাহিনীর অস্তিত্ব রক্ষাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যৌথ আগ্রাসনের জবাবে এক নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী পাল্টাহানা শুরু করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তেহরানের পক্ষ থেকে পরিচালিত এই ‘ষষ্ঠ দফার’ প্রতিশোধমূলক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা অন্তত ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই হামলার তীব্রতায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামো এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই হামলার ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে জানিয়েছে, আকাশপথে ধেয়ে আসা ইরানি মিসাইলগুলো মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নিখুঁত আঘাত হেনেছে। আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে যে, তাদের এই আক্রমণ কেবল মার্কিন শক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং ইসরাইলের ভেতরে থাকা অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনাগুলোকেও গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

তেহরানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ ‘তেল নোফ’ বিমান ঘাঁটি। এছাড়া তেল আবিবের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রধান সদর দপ্তর ‘হাকিরিয়া’ এবং একটি বিশাল প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরানি ড্রোন ও মিসাইল ইউনিট। এই হামলাগুলোর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব এখনো নীরব থাকলেও স্থানীয় সূত্রগুলো একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করছে।

ইরান এই অভিযানকে কেবল একটি ‘সামান্য মহড়া’ বা সূচনা হিসেবে বর্ণনা করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, ভবিষ্যতে শত্রুপক্ষকে আরও বেশি শোচনীয় আঘাত দেওয়ার জন্য তারা ভিন্নধর্মী ও আরও কঠোরতম প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত করতেই এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ছক কষা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত