ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
মে মাসে সড়কে ঝরল ৬২২ প্রাণ, শীর্ষে ঢাকা বিভাগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদায়ী মে মাসে সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল সড়কপথেই ঘটেছে ৬১৩টি দুর্ঘটনা, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৬২২ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৫২ জন। শনিবার (১৩ জুন) দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যবেক্ষণ করে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, অনেক দুর্ঘটনা সংবাদপত্রে না আসায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এই বিভাগে ১৮০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে; যেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হন। সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় অংশই ছিল মোটরসাইকেল কেন্দ্রিক। মাসজুড়ে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত ও ২১৯ জন আহত হয়েছেন—যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬.০৫ শতাংশ এবং নিহতের ৩৭.১৩ শতাংশ। এছাড়া মে মাসে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন এবং নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন, নিখোঁজ রয়েছেন ৭ জন।
নিহতদের পেশাগত পরিচয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সড়কে প্রাণ হারানোদের মধ্যে ১৩৬ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৬৯ জন নারী, ৫৯ জন শিশু, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৪৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮ জন শিক্ষক, ২ জন পুলিশ সদস্য, ২ জন বিজিবি সদস্য, ১ জন চিকিৎসক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ জন আইনজীবী এবং ৩ জন রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন। দুর্ঘটনায় পড়া ৯৭৫টি যানবাহনের মধ্যে ২৮.৬৯% মোটরসাইকেল, ২৩.১০% ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান, ১৪.৪৫% বাস এবং ১২.৯৭% ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। এসব দুর্ঘটনার ৪৪.৬৯ শতাংশই ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে, যার মূল ধরণ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ (৪২.০৮%) এবং গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়া (৩২.৩০%)।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ার পেছনে ৯টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় মহাসড়কে ধীরগতির ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও ডিভাইডার না থাকা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং ঈদের সময় অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের বাসের বা ট্রাকের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ।
এই বিপর্যয় রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স প্রদান নিশ্চিত করা, মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত তৈরি করা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ ও চালকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা, বিআরটিএর সক্ষমতা বাড়ানো এবং পরিবহন সেক্টরে মালিক-শ্রমিক ফেডারেশনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)