ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
মৌলভিত্তির সাত শেয়ারের কারণে সবুজ থেকে লালে শেয়ারবাজার
ডুয়া নিউজ: সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার বাজার শুরুর পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশা জাগানিয়া প্রবণতা কাজ করছিল। কারণ আজ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে বিনিয়োগকারী সংগঠনগুলোর উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। গত দুই কার্যদিবসেও বাজারে বৈঠকটি ঘিরে কিছুটা ইতিবাচকতা ধারা দেখা গিয়েছিল। মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়েছিল ১৯ পয়েন্ট, আর বুধবার বেড়েছিল আরও ৬ পয়েন্ট।
কিন্তু বৈঠকের দিন আজ বৃহস্পতিবার বাজারের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। লেনদেনের শুরুতে উত্থানের ঝলক দেখা গেলেও মধ্যভাগ থেকে বড় মূলধনী কয়েকটি মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারদর পতন শুরু হয় এবং তা দিনভর চলতে থাকে।
লংকাবাংলা অ্যানালাইসিস পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, আজ ডিএসইতে ২০০ প্রতিষ্ঠানের পতন হয়েছে। তবে মাত্র সাতটি কোম্পানির পতনের কারণেই সূচক কমেছে প্রায় ১৬ পয়েন্টের বেশি। পুরো বাজারে সূচকের মোট পতন হয়েছে ১৬ পয়েন্টের কিছু বেশি, অর্থাৎ সাত কোম্পানিই ডিএসইর সূচক পতনের মূল কারণ।
কোম্পানিগুলো হলো: স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রামীণফোন, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ। এ সাতটি কোম্পানিই দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয়, মৌলভিত্তি শক্তিশালী এবং নিয়মিত ভালো ডিভিডেন্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে এদের ভাবা হয়ে থাকে।
তবে বাজারে দেখা যাচ্ছে, মৌলভিত্তি ভালো হলেও এসব কোম্পানিগুলোতে বড় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম। এর অন্যতম কারণ হলো—এ ধরনের বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে কারসাজি করা প্রায় অসম্ভব। ফলে যেসব বিনিয়োগকারী স্বল্পমেয়াদি লাভে আগ্রহী, তারা অপেক্ষাকৃত ছোট, দুর্বল মৌলভিত্তির কিন্তু উচ্চমূল্য ওঠানামার শেয়ারগুলোর দিকেই ঝুঁকছেন। এতে মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলো পিছিয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তাকেও সামনে নিয়ে আসে। ব্যাংক, বীমা এবং মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকায় বাজারের ভারসাম্য রক্ষা করা যাচ্ছে না। তারল্য সংকটের সময় তারা বড় কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করে অপেক্ষা করার নীতি গ্রহণ করেছে।
সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষার জন্য মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না, বরং সূচক অল্প কিছু দুর্বল কোম্পানির ওঠানামার উপর নির্ভর করতে থাকবে। নীতিনির্ধারকদের উচিত মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ারকে আরও বিনিয়োগবান্ধব করে তোলা এবং বাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। কারণ বড় কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়া মানে দীর্ঘমেয়াদি শেয়ারবাজারের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়া।
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা: দেখুন সবগুলো প্রশ্নের সঠিক সমাধান
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- বুলগেরিয়ার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হলো ঢাবি শিক্ষার্থীর প্রামাণ্যচিত্র
- বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাবি, যৌথভাবে দেশসেরা
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যা জানাল শিক্ষাবোর্ড
- বদলে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম
- নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য মোর্শেদ হাসান খানকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে ভাইভার সময়সূচি নিয়ে যা জানা গেল
- বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে
- মিমোর মৃ'ত্যু ঘিরে সর্বশেষ যা জানা গেল