×

ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বাজার স্থিতিশীল করতে অভিজ্ঞ কমিশন গঠনের তাগিদ

২০২৬ অক্টোবর ১২ ১৫:২৬:১৬

বাজার স্থিতিশীল করতে অভিজ্ঞ কমিশন গঠনের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেনে রেকর্ড পতন হয়েছে। এ কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাজার সংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণে বর্তমান কমিশন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। আগের কমিশনই ভালো ছিল, কারণ আগের কমিশনের সময় পতন হলেও একটি সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু বর্তমান কমিশনের সময় সীমাহীনভাবে পতন হলেও তা থেকে বের হওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেই। সূচক একদিন বাড়লে টানা কয়েকদিন পতন ঘটে, যা সার্বিক বাজার চিত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই বাজার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছিল। এতে হারানো পুঁজি ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি কিছুটা মুনাফাও হয়েছিল। সরকার বাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে আগের কমিশন বাদ দিয়ে বর্তমান কমিশনকে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে বসিয়েছে। কিন্তু সরকার ও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে বর্তমান কমিশন। তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজার তো স্থিতিশীল হয়নি, বরং ধারাবাহিক দরপতনে পুঁজি হারিয়ে লোকসানের পরিমাণ বেড়েছে।

তাই সরকারের উচিত এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করে বর্তমান কমিশনের জায়গায় নতুন অভিজ্ঞ কমিশন গঠন করা, যাতে বাজার স্থিতিশীল হয় বলে মনে করছেন তারা।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারের এমন নেতিবাচক পরিস্থিতির পর এই কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সংকট আরও বেড়ে যাবে। কমিশনের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করা। একই সঙ্গে সরকারের উচিত বাজার উন্নয়নে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে অভিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন কমিশন গঠন করা। তবেই বাজারে আবারও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

এদিকে, আজ (১২ অক্টোবর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেন কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৬.১৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪০৪.৮৬ পয়েন্টে, যা গত সাড়ে ৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ১ জুন ডিএসইর সূচক ছিল ৫ হাজার ৩৭২.৬৩ পয়েন্ট। আজ অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ৯.৬২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০.৬৮ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ৮.৯০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৪.৫৫ পয়েন্টে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪৭টির দর বেড়েছে, ৩০৩টির দর কমেছে এবং ৩৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ডিএসইতে এদিন প্রায় ৪৫২ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা গত প্রায় ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ৯ মার্চ লেনদেন হয়েছিল ৪১৬ কোটি ৪ লাখ টাকা। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৫৬৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় আজ লেনদেন কমেছে প্রায় ১১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

এদিকে, অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ ২৯ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগেরদিন সিএসইতে ৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল।

আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ১২০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ২২টির।

এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৪.০২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৫১.২২ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক সিএএসপিআই ২৫.৭১ পয়েন্ট কমেছিল।

আরিফ/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

শেয়ারবাজার এর অন্যান্য সংবাদ