×

ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নেকাব নিয়ে কটাক্ষের অভিযোগ অস্বীকার ঢাবি শিক্ষকের, যা জানালেন

২০২৬ অক্টোবর ১০ ১৯:০২:৪১

নেকাব নিয়ে কটাক্ষের অভিযোগ অস্বীকার ঢাবি শিক্ষকের, যা জানালেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগ নাকচ করেছেন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব। তাঁর দাবি, ওই শিক্ষার্থীকে নেকাব খুলতে, পোশাক বদলাতে কিংবা শ্রেণিকক্ষ থেকে চলে যেতে তিনি বলেননি। এ ঘটনায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পড়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তাসনিম সিরাজ মাহবুব। তিনি জানান, শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পোশাকের বিরোধিতা করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। মুখমণ্ডল ঢাকা থাকায় শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে যে অসুবিধা হচ্ছিল, তিনি মূলত সেই বিষয়টিই বোঝাতে চেয়েছিলেন।

তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর ইংরেজি বিভাগের একটি ক্লাসে তিনি এক ছাত্রীকে চোখসহ পুরো মুখমণ্ডল ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে না পারা এবং চোখে চোখ রেখে যোগাযোগে অসুবিধা হওয়ায় পাঠদানের সময় অস্বস্তি হচ্ছিল। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ধর্মীয় পর্দা, শালীন পোশাক ও এ-সংক্রান্ত ধর্মীয় ব্যাখ্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।

এই শিক্ষক জানান, পরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তাঁর কথায় ওই ছাত্রী কষ্ট পেয়ে ক্লাস ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর সহপাঠীদের মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করে তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশের চেষ্টা করেন তিনি। তবে তিনবার খবর পাঠানোর পরও এবং করিডরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেও শিক্ষার্থীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি।

বিভাগের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে তাসনিম সিরাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর তাঁর বক্তব্য শোনার আগেই ইংরেজি বিভাগের সব কোর্স অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মর্মাহত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চেয়েছেন। একই সঙ্গে সভায় দেওয়া বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে ঘটনাটি যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ঘটনার পর বেনামি ফোন, ইমেইল, আপত্তিকর বার্তা ও হুমকি পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীসহ সবার মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন এই শিক্ষক।

তাসনিম সিরাজ মাহবুব মনে করেন, পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তার প্রতি সম্মান বজায় রেখে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালা অনুসরণ করে তা করা উচিত।

এর আগে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের একটি ক্লাসে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা মৌলবাদী এবং ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ ওঠে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় তাঁর সব কোর্স অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত