ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ০৮ ১৯:৪৯:৪১

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরিপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের মাধ্যমে সিভিল, মিলিটারি এবং জুডিশিয়ারিতে কর্মরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা জানতে চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। একই সঙ্গে ৭৯ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও সরকারের অবস্থান জানতে চান তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে এসব প্রশ্ন উত্থাপন করেন আখতার হোসেন।

নোটিশে তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের অত্যন্ত স্পর্শকাতর দপ্তরগুলোতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়া বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত ৯০ হাজার ৫২৭ জনের সনদ যাচাই-বাছাইয়ের সময় ইতোমধ্যে অন্তত ৮ হাজার জনের সনদে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রতি ১০০ জনের মধ্যে সাত থেকে আটজনের তথ্যে গুরুতর গলদ পাওয়া যাচ্ছে। ২০১৪ সালে পাঁচজন জ্যেষ্ঠ সচিবের ভুয়া সনদের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ জালিয়াতির ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আখতার হোসেন বলেন, সরকার তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত রাখলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত স্থগিত করার নানা অপচেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এই চক্রকে দ্রুত চাকরিচ্যুত করে আইনের আওতায় আনা না হলে তারা রাষ্ট্রের গোপনীয় তথ্য পাচার কিংবা সিভিল, মিলিটারি বা জুডিশিয়ারি ক্যুর উস্কানির মাধ্যমে বড় ধরনের জাতীয় সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, প্রশাসনে মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের সব ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রেখে ভুয়া সনদধারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে সরকার কী ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, বর্তমান সরকার জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত অমুক্তিযোদ্ধা ও তাদের ওয়ারিশদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে। শুধু কোটার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তরাই নন, রাষ্ট্রের অবৈধ সুবিধা গ্রহণকারী অমুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধেও সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

সম্পূরক প্রশ্নে আখতার হোসেন বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, মহান মুক্তিযুদ্ধকে কিছু অসাধু ব্যক্তি ব্যবসায় পরিণত করেছিল। তাঁর দাবি, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে অনেকে সরকারি চাকরি, রাজনৈতিক পদ-পদবি, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিয়েছেন। এর ফলে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং নানা ধরনের অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও দেশে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার সুনির্দিষ্ট তালিকা এখনো হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৭৯ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও রাষ্ট্রীয় ভাতা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে, যা একটি বড় সংকট তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের দুঃশাসন, ফ্যাসিবাদ, জুলুম ও নিপীড়নের বিপরীতে ঢাল হিসেবে মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করেছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি জানতে চান, সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক পরিসংখ্যান ও সংজ্ঞায়ন করবে কি না এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বা অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুনির্দিষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, একটি পত্রিকায় প্রকাশিত ৭৯ হাজার অমুক্তিযোদ্ধার তথ্যও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নয়। তাঁর ভাষ্য, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। এই বিতর্কের জের ধরেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আজন্ম যোদ্ধা এবং দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও ফ্যাসিবাদী সরকার মামলা করেছিল। তিনি আরও বলেন, যেহেতু বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও চেতনা লালনকারী সরকার, তাই এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ