ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মিয়ানমারের সদিচ্ছা ও রাখাইনের পরিস্থিতির ওপর: প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ০৮ ১৮:০৬:৫০

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মিয়ানমারের সদিচ্ছা ও রাখাইনের পরিস্থিতির ওপর: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে অত্যন্ত জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ সংকটের সমাধান অনেকাংশেই রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা তাঁর প্রশ্নে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত লিখিত উত্তর উপস্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত সরকারগুলো ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে খালেদা জিয়ার আমলে উদ্ভূত রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করেছিল।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের বহুমুখী কূটনৈতিক তৎপরতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক-সব পর্যায়েই জোরালোভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর), ইউএন উইমেন এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, গাম্বিয়া কর্তৃক আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার অত্যন্ত সুচিন্তিত ও বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকগণের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্কফোর্স’ সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করছে বলেও তিনি জানান।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত