ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

৫৪ দেশে বিজ্ঞান-শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করল কমস্টেক

২০২৬ জুলাই ০৮ ১৯:২১:৫৫

৫৪ দেশে বিজ্ঞান-শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করল কমস্টেক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা–বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের স্থায়ী কমিটি (কমস্টেক) ২০২৫ সালে ৫৪টি দেশে বিজ্ঞান ও শিক্ষা–সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সংস্থাটির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময় ৫ হাজার বিজ্ঞানী ও গবেষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ৭৫৯টি স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক এ আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বছরে মোট ১৭৪টি প্রকল্প ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। পাশাপাশি ৫২টি গবেষণা অনুদান দিয়েছে এবং ৬৮টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এ ছাড়া ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর ৮০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিয়ে তাদের সহযোগিতা নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলজেরিয়া, আজারবাইজান, বাংলাদেশ, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মরক্কো, রুয়ান্ডা, সৌদি আরব, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, ইয়েমেনসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং প্রতিষ্ঠানগুলো কমস্টেকের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা পেয়েছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেওয়া ৭৫৯টি স্কলারশিপ ও ফেলোশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণ গবেষকদের পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬৮টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫ হাজার বিজ্ঞানী ও গবেষককে আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, বায়োটেকনোলজি, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, ভ্যাকসিন প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য উদীয়মান বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বায়োটেকনোলজি গবেষণা, আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা এবং গবেষণাসংক্রান্ত কার্যক্রমে তরুণ ও নারী বিজ্ঞানীদের সহায়তার জন্য ৫২টি গবেষণা অনুদান দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের গবেষকদের কথা বিবেচনায় রেখে এসব অনুদান দেওয়া হয়, যেখানে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা প্রায়ই গবেষণার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

কমস্টেকের কার্যক্রম স্বাস্থ্য ও জীববিজ্ঞান, শিক্ষা, গবেষণা, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উন্নয়ন–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত ছিল। পাশাপাশি কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, বায়োটেকনোলজি, প্রকৌশল, মানবিক সহায়তা, জ্বালানি এবং বিজ্ঞান কূটনীতি–সংক্রান্ত একাধিক কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালে পাঞ্জাবের বন্যাকবলিত এলাকায় কমস্টেক বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ত্রাণ শিবির পরিচালনা করেছে। দক্ষিণ পাঞ্জাব ও চিনিওট জেলায় প্রায় ৫ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ওষুধ, চিকিৎসাসেবা এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

স্বাস্থ্য খাতে আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি), এলআরবিটি এবং আল-শিফা ট্রাস্টের সহযোগিতায় ওআইসির মহাসচিবালয়ের সমন্বয়ে আফ্রিকাজুড়ে চোখের অস্ত্রোপচার কর্মসূচি শুরু করেছে কমস্টেক। এ কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ছানি ও রেটিনার অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

বার্ষিক প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ৮০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বিনিময় এবং একাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনটি বলছে, গবেষণা, উচ্চশিক্ষা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বিজ্ঞান কূটনীতির মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে ইসলামাবাদভিত্তিক কমস্টেক সচিবালয়ের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত