ঢাকা, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
মেরিনোর গোলে পর্তুগালকে বিদায় করল স্পেন
স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন মিকেল মেরিনো। ডালাস স্টেডিয়ামে তার একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি মাঝমাঠে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।
বর্তমান স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে পরিশ্রমী ও বহুমুখী মিডফিল্ডারদের একজন মেরিনো। ১৯৯৬ সালের ২২ জুন স্পেনের নাভারার পাম্পলোনায় জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার বেড়ে উঠেছেন একটি ফুটবল পরিবারে। তার বাবা মিগেল মেরিনোও ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। বাবার পথ অনুসরণ করেই ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়।
মেরিনোর ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু স্প্যানিশ ক্লাব ওসাসুনার যুব একাডেমিতে। সেখান থেকে সিনিয়র দলে অভিষেকের পরই তার প্রতিভা নজর কাড়ে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর। ২০১৬ সালে তিনি যোগ দেন জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে। যদিও সেখানে নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়া সহজ ছিল না, তবু ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলের মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।
এরপর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডে এক মৌসুম কাটিয়ে নিজের খেলায় আরও পরিণত হন মেরিনো। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় স্পেনে ফিরে রিয়াল সোসিয়েদাদে যোগ দেওয়ার পর। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে দলের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। নিখুঁত পাস, বল নিয়ন্ত্রণ, আকাশে আধিপত্য এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে গোল করার সামর্থ্যের কারণে দ্রুতই তিনি দলের অপরিহার্য সদস্যে পরিণত হন।
ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে স্পেন জাতীয় দলেও নিয়মিত সুযোগ পান মেরিনো। মাঝমাঠে তার পরিশ্রম, কৌশলী পাস এবং আক্রমণ ও রক্ষণ-দুই বিভাগেই সমান অবদান রাখার সামর্থ্য তাকে কোচদের আস্থাভাজন করে তুলেছে। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া থেকে শুরু করে নতুন আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে সেই অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন দেখা যায়। পুরো ম্যাচে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পাশাপাশি পাওয়া সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জয়সূচক গোল করেন তিনি। তার সেই একমাত্র গোলেই স্পেন নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
স্প্যানিশ ফুটবলে মেরিনোকে কেবল একজন গোলদাতা হিসেবে মূল্যায়ন করা হয় না। বরং তিনি এমন একজন মিডফিল্ডার, যিনি ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ষণে নেমে আসেন এবং আক্রমণেও কার্যকর অবদান রাখেন। বড় ম্যাচে শান্ত থাকা, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতার কারণেই বর্তমানে স্পেনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলারদের একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন মিকেল মেরিনো।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার এই গোল স্পেনকে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেনি, শিরোপার লড়াইয়েও দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন স্প্যানিশ সমর্থকদের প্রত্যাশা, টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপগুলোতেও মাঝমাঠের এই নির্ভরযোগ্য যোদ্ধা একইভাবে দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত
- পর্নোগ্রাফি মামলায় ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার
- লন্ডনে ঢাবি অ্যালামনাই ইউকের কোচ ট্রিপ অনুষ্ঠিত
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ জয়ী
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৩ আগস্ট)
- স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১৮ আগস্ট পর্যন্ত
- বিইউপিতে ২৯ পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ
- নতুন পে-স্কেলে বড় পরিবর্তন, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে বেতন-ভাতা
- নবম পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- খণ্ডকালীন শিক্ষক নেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জানুন আবেদনপদ্ধতি
- বস্ত্র অধিদপ্তরে ৪২ পদে পুনর্নিয়োগ
- চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনায় পিংক বাস
- নোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষকের বেতন বন্ধ
- দিনে তিনবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট দেখার নির্দেশ
- শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়া স্কুলকে শোকজ