ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
জার্মানির ন্যায্য গোল বাতিল,রেফারির স্বজনপ্রীতি?
স্পোর্টস ডেস্ক: বোস্টনে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে জার্মানি। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল হওয়া। এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ইউলিয়ান নাগেলসমানের দলকে পরের রাউন্ডে ওঠা থেকে বঞ্চিত করে।
কাই হাভার্টজের সমতাসূচক গোলের পর নির্ধারিত সময়ে জার্মানি ও প্যারাগুয়ে ১-১ গোলে সমতায় ছিল। প্রথমার্ধে হুলিও এনসিসোর হেডে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। পরে হাভার্টজ গোল করে সমতা ফেরান।
অতিরিক্ত সময়ে নাথানিয়েল ব্রাউনের লুপিং কর্নার থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করেন ডিফেন্ডার জোনাথান টাহ। গোলের পর জার্মান বেঞ্চ উল্লাসে ফেটে পড়লেও কিছুক্ষণ পর প্রধান ভিএআর তাতিয়ানা গুজমান মরক্কান রেফারি জালাল জায়েদকে পিচ-সাইড মনিটরে ডেকে পাঠান।
রিভিউয়ে দেখা যায়, কর্নার নেওয়ার সময় ওয়ালডেমার আন্তন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে বাধা দিয়েছেন। এরপর রেফারি সিদ্ধান্ত দেন, গোলরক্ষকের প্রতি ফাউল হওয়ায় টাহর গোলটি বাতিল করা হবে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল আন্তনের অবস্থান। কর্নার থেকে বল আসার সময় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে গিলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং বল ধরার চেষ্টার সময় তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে এমন কৌশল পরিচিত হলেও, ফিফার নতুন নিয়মে নিজেদের ছয় গজ বক্সে গোলরক্ষককে এভাবে বাধা দেওয়া ফাউল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রিপ্লেতে শারীরিক সংস্পর্শ খুবই সামান্য মনে হলেও, ক্রস আসার সময় গিল মাটিতে পড়ে যান। ফিফার টুর্নামেন্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, গোলরক্ষকের বল ধরার সুযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা বা তাকে আড়াল করে রাখা ফাউল হিসেবে গণ্য হতে পারে। সেই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই রেফারি জায়েদ গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।
এই সিদ্ধান্তের পর টেলিভিশন স্টুডিওগুলোতে তাৎক্ষণিক বিতর্ক শুরু হয়। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, মাঠের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার মতো স্পষ্ট প্রমাণ ছিল না।
বিবিসিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার বলেন, “এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি একদমই একমত নই। সামান্য স্পর্শেই গোলরক্ষক মাটিতে পড়ে গেছে, এটা খুবই হালকা ছিল। আমার মনে হয়েছে এটা একটা ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। বুঝতে হবে এটা শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। গোলরক্ষক রেফারি আর ভিএআরকে বোকা বানিয়েছে। তার পড়ে যাওয়ার ভঙ্গিটা একেবারে হাস্যকর ছিল।”
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানও বাতিল হওয়া গোল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, জার্মানির মতো দলের ভাগ্য কোনো একক রেফারিং সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
দোভাষীর মাধ্যমে নাগেলসমান বলেন, “অবশ্যই বলা যায়, আমরা অন্যভাবে সমাধান করতে পারতাম। তবে ওই গোলটা বৈধ ছিল। এটা বাতিল হওয়া একেবারে হাস্যকর একটা ব্যাপার।”
তিনি আরও বলেন, “তবে শেষ কথা হলো, এত বড় টুর্নামেন্টের প্রথম নকআউট রাউন্ডেই যদি এতগুলো দলের মধ্যে আমরা বাদ পড়ে যাই, তাহলে এটা স্পষ্টতই জার্মান ফুটবলের জন্য যথেষ্ট নয়।”
বিতর্ক চললেও ফল আর বদলায়নি। অতিরিক্ত সময়ের জয়সূচক গোল বাতিল হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানি তিনটি শট মিস করে। এর মধ্যে শেষ শটটি নষ্ট করেন জোনাথান টাহ।
ইমামুল হক প্রত্যয়
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ, দেখুন এখানে
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- জাবির জঙ্গলে গভীর রাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক
- ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানা গেল
- ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই দিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেল’ আছিয়ার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ অক্টোবর)
- দৈনন্দিন একাডেমিক কার্যক্রম সহজকরণে 'ক্লাসট্যাবলেট'
- বুয়েটে ২৪ পদে নিয়োগ, আবেদন ১১ নভেম্বর পর্যন্ত
- শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান
- বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
- বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর