ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

বিমানবন্দরের কার্গো জট কাটাতে ছুটির দিনেও সেবা চালুর তাগিদ

২০২৬ জুন ২৫ ১৫:২২:০৮

বিমানবন্দরের কার্গো জট কাটাতে ছুটির দিনেও সেবা চালুর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:ঢাকার বিমানবন্দরে কার্গো জট এখন শুধু ব্যবসায়ীদের মাথাব্যথার কারণ নয়, এটি দেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পণ্য খালাসে গতি না আসায় এবার ছুটির দিনেও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সেবা কার্যক্রম চালুর ওপর জোর দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

‘শুক্র-শনিবারের সীমিত কার্যক্রম জট বাড়াচ্ছে’

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিমানবন্দরে বিদ্যমান কার্গো সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ছুটির দিনেও কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সেবা চালু রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে নন-ট্যারিফ বাধাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আয়োজিত ওই সভায় তিনি বলেন, বর্তমানে শুক্র ও শনিবার কার্যক্রম সীমিত থাকায় জমে থাকা কার্গো দ্রুত কমানো যাচ্ছে না। ফলে সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

সভায় আলোচনায় উঠে আসে, প্রতিদিন বিমানবন্দরে যে পরিমাণ কার্গো আসছে, প্রায় একই পরিমাণ পণ্য খালাসও হচ্ছে। তবে আগে থেকে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কার্গো সরাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

বিমানবন্দর গুদাম নয়, প্রয়োজন আধুনিক কার্গো ভিলেজ

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের মূল কাজ হলো পণ্য পরিবহনের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে কাজ করা। এটি কোনো স্থায়ী সংরক্ষণাগার বা গুদাম নয়। কিন্তু নানা কারণে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য বিমানবন্দরে পড়ে থাকায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে বিমানবন্দরের বাইরে আধুনিক ও নিরাপদ সংরক্ষণ সুবিধাসহ একটি পৃথক কার্গো ভিলেজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

তার মতে, আগামী এক দশকের চাহিদা মাথায় রেখে পরিকল্পনা নিতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিমুক্ত পণ্য, দ্রুত সরবরাহযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণযোগ্য কার্গোর জন্য আলাদা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে পুরো প্রক্রিয়া আরও দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে।

সাত দিনের মধ্যে অগ্রগতি দেখতে চান বিমানমন্ত্রী

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, কার্গো জট শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ নয়, এটি বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছেও বাংলাদেশের নেতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আগামী সাত দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত কার্গোর চাপ কমিয়ে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেকটাই চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমস্যা থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে, কর্মবিরতি বা চাপ সৃষ্টির পথ বেছে নেওয়া উচিত নয়।

রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর

বৈঠকে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক সুবিধা গড়ে তুলতে পারলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, কার্গো অপারেটর এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিমানবন্দরের কার্গো সংকট এখন আর কেবল একটি প্রশাসনিক সমস্যা নয়; এটি দেশের বাণিজ্য, রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত সমাধান বাস্তবায়নই হতে পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের কার্যকর পথ।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত