ঢাকা, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

বেতনবঞ্চিত মাদরাসা শিক্ষকদের নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

২০২৬ জুন ২৪ ১৩:৪৩:৪৭

বেতনবঞ্চিত মাদরাসা শিক্ষকদের নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বেতন না পাওয়ার কষ্ট তিনি নিজেও উপলব্ধি করেন। এনটিআরসিএর মাধ্যমে মাদরাসায় নিয়োগ পাওয়া ১৭ হাজার শিক্ষক বর্তমানে বেতন না পাওয়ার সমস্যায় রয়েছেন, তবে এ সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি এক মাসের বেতন না পেলে কী দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হয়। লাস্ট ইন্টেরিম গর্ভমেন্ট এনটিআরসিএ থেকে মাদরাসায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে গেছে। কিন্তু তাদের বেতনের বাজেট অ্যালোকেট করেনি। ফলে শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না। দ্রুত এ সমস্যা কেটে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, আগের সরকার প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি। সময় যত গিয়েছে, ততই এমন কিছু সমস্যা রেখে যাওয়া হয়েছে যাতে পরবর্তী সরকারের কাজ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না এবং বর্তমান সরকার তা হতে দেবে না।

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমার হাতে ১০০ কোটি টাকা ছিলো, আমি জনতা ব্যাংকে এই টাকা দিয়েছি। যাদের অ্যাকাউন্ট জনতা ব্যাংকে তারা বেতন পেয়েছেন। বাকিরা পাচ্ছেন না এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই দুঃখ প্রকাশ করার কথা ছিলো বিগত সরকারের, তারা তা করেনি। এভাবে চলছে আমাদের বাংলাদেশ।’

বক্তব্যে তিনি শিক্ষাজীবনে সময়ক্ষেপণের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ৪০ লাখ শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হয়। এটি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে পিছিয়ে দেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সময়ের অপচয় কমানোর চেষ্টা করছে।

তিনি জানান, এ কারণেই ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদিও পরীক্ষাটি আরও পরে নেওয়া সম্ভব ছিল, তবে রোজা ও ঈদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হয়েছে। তাদের পরামর্শ ছিল রমজান ও ঈদের আগেই পরীক্ষা শেষ করা। সেই মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি জোরদার করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ইন-হাউজ কোচিং’ চালুর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা কোর্স কাভার করেছি। প্রি-টেস্ট এবং ইন-হাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। প্রত্যেক স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন-হাউস কোচিং করতে হবে।’

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্থানীয় পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সম্মানী প্রদান সাপেক্ষে হলেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালোভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত