ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

দুই বছরের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সব বকেয়া ভাতা পরিশোধের আশ্বাস

২০২৬ জুন ২৫ ১৪:০৪:৪৬

দুই বছরের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সব বকেয়া ভাতা পরিশোধের আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২২ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের আটকে থাকা অবসর ভাতার বকেয়া আগামী দুই বছরের মধ্যে পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার সকালে রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে চার শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট ও সংস্কার প্রসঙ্গ তুলে ধরতে গিয়ে মন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দুর্ভোগের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০২২ সাল থেকে যাঁরা অবসরে গেছেন, তাঁদের একজনও এখন পর্যন্ত অবসর ভাতার অর্থ পাননি। একজন শিক্ষক অবসরের পর সাধারণত ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের সময়ে এ তহবিলের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ফলে হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

এহছানুল হক মিলন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি এই মানবিক সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন। আসন্ন জুলাইয়ের বাজেটে এ খাতে অতিরিক্ত ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ বন্ডও পাওয়া গেছে। তিনি জানান, আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাতা বিতরণ শুরু হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে শিক্ষকদের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে দীর্ঘদিনের এই জটিলতার অবসান ঘটানো হবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক সংকটের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, আদালতে একটি মামলার কারণে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে আরও ১৭ হাজার শিক্ষক অবসরে গেছেন। বর্তমানে দেশের ৬০ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো কেন এই সমস্যার সমাধান করেনি। তাঁর ভাষ্য, মামলার জট তৈরি করে শিক্ষাব্যবস্থাকে স্থবির করে রাখা হয়েছিল।

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পরিমার্জিত নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ মো. আক্তারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এছাড়া ঢাকা, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত