ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়া সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

২০২৬ জুন ২৩ ১৬:২৪:৪৫

রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়া সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রপ্তানি আয় বর্তমান প্রায় ৫০–৫৫ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারলে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন নয়।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। এ জন্য শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের ধারণা সময়োপযোগী হলেও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম দুর্বলতা। ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

তিনি জানান, লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

জুট খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির তুলনায় মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুটভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদনে বহুগুণ বেশি আয় সম্ভব। এ খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিল্প উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিটি প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপদ্ধতি ও ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনতে আমরা প্রস্তুত। সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

বাণিজ্য সচিব জানান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে বেসরকারি খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, রপ্তানি খাতের পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো জাতীয় বাজেটের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন, নীতিগত সহায়তা ও প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে একটি টেকসই মডেল গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং প্রয়োজনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-কে বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে যুক্ত করে পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত