×

ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করে ব্যবসা করার সুযোগ নেই: সেতুমন্ত্রী 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ১৯:৫৩:৪২

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বাস কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেল এবং সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবার উন্নতি না হলে সংশ্লিষ্ট রুটে নতুন কোম্পানি গঠন করা হবে। এরপরও কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে প্রয়োজনে রুট বাতিল করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁও সড়ক ভবনের অডিটরিয়ামে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় বাসমালিকদের সঙ্গে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সভাটির আয়োজন করে।

বাসের মান, যাত্রীসেবা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বলে উল্লেখ করেন শেখ রবিউল আলম। কোনো মালিক বাস যথাযথভাবে সংস্কার না করলে কিংবা চালক-কর্মচারীরা নির্ধারিত নিয়ম না মানলে তার দায়িত্বও কোম্পানিকে নিতে হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো বাসমালিক চিনব না, কোম্পানি চিনব। বাসটি আপনার কোম্পানির অধীনে চলে। মালিক মানসম্মতভাবে বাস সংস্কার না করলে, যাত্রীর সুবিধা নিশ্চিত না হলে, চালক কথা না শুনলে এবং কর্মচারীরা শৃঙ্খলা না মানলে সেই বাসের দায় আপনাদের নিতে হবে। তা নিশ্চিত করতে না পারলে ওই মালিকের বাস কোম্পানিতে রাখবেন না।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করে, ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জ করে ব্যবসা করার সুযোগ কারও নেই। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব পরিবর্তন চাইব। তা না হলে প্রয়োজনে নতুন কোম্পানি গঠন করব। তাতেও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা না গেলে রুট বাতিল করে সরকারি পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।’

বাসমালিকদের লোকসানের বিষয়টি তুলে ধরার প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রথমে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়া সমন্বয় নিয়ে সরকার আলোচনা করবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা মানসম্মত যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করুন। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করুন। বাসে চড়তে মানুষকে আগ্রহী করার মতো পরিবেশ তৈরি করুন। প্রয়োজনে আমরা বসব। আপনাদের লোকসান হলে আমরা দেখব। উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে হবে, তাঁদের নির্দিষ্ট মাত্রার লাভেরও প্রয়োজন আছে।’

সেবার মান না বাড়িয়ে শুধু ভাড়া বাড়ানোর দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। কোনো ব্যবসায় প্রত্যাশিত লাভ না হলে সেই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই বলেও জানান তিনি। যাত্রীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না বলে উল্লেখ করেন শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, ‘আপনি সেবা বিক্রি করছেন, তার জন্য যুক্তিসংগত লাভ করবেন। কিন্তু সেবার মান উন্নত না করে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া চাইবেন, এটা হতে পারে না।’

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চার্জিং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান মন্ত্রী। নির্দিষ্ট এলাকা ও নিয়মের আওতায় এসব যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপযুক্ত চালকদের দ্রুত ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান শেখ রবিউল আলম। বাস কোম্পানিগুলোকে দক্ষ, প্রশিক্ষিত এবং শারীরিক-মানসিকভাবে সক্ষম চালকদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে পাঠাতে হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা উপযুক্ত চালক চিহ্নিত করে পাঠান। তিনি গাড়ি চালাতে জানেন, নিয়ম জানেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট, তা নিশ্চিত করুন। আমরা পরীক্ষা নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’

ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাসস্টপেজ চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলোর মানোন্নয়নের দায়িত্ব ডিটিসিএকে দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। রুটভিত্তিক বাস কোম্পানিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাসস্টপেজ নির্ধারণ করতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে সেগুলোকে যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বাসের সেবার মান বাড়াতে কোম্পানির ব্যয় এবং মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া বিভিন্ন অর্থ কমানোর পরামর্শও দেন শেখ রবিউল আলম। নতুন বা ভালো বাস যুক্ত করার ক্ষেত্রে মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া ফি ও অন্যান্য খরচ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানান তিনি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আপনারা হয়তো তিন-চার মাস আগের মতো আয় করতে পারবেন না। কিন্তু অনৈতিকভাবে কালেকশন করা হলে সেটা কমিয়ে দেন। মালিকের কাছ থেকে গাড়ি বুকিং ফি বেশি নেওয়া হলে, ট্রিপপ্রতি বেশি টাকা নেওয়া হলে, সেটা কমিয়ে দেন। বাসের সেবার মান বাড়ান।’

পরিবহন মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বাসের সেবার মান উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের জীবনমান পরিবর্তনে উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে। সরকার পরিবহনের মালিকদের সঙ্গে নিয়েই পরিবর্তন আনতে চায়। তবে অনিয়ম, গাফিলতি ও অসহযোগিতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

শেখ রবিউল আলম বলেন, এক দিনে বা এক মাসে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে এ উদ্যোগ থেকে সরকার সরে আসবে না। মালিকদের বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা মেনে নেওয়া হবে না।

ইমামুল

ট্যাগ: বিআরটিএ পরিবহন খাত ড্রাইভিং লাইসেন্স ডিটিসিএ যাত্রী নিরাপত্তা ঢাকার যানজট শেখ রবিউল আলম বাস ভাড়া অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ বাস কোম্পানি ঢাকার গণপরিবহন দক্ষ চালক অটোরিকশা চলাচল পরিবহন শ্রমিক ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঢাকার বাস বাস রুট রেশনালাইজেশন গণপরিবহনে শৃঙ্খলা গণপরিবহনে যাত্রীসেবা যাত্রীসেবার মান বাসের সেবার মান বাসের মান উন্নয়ন বাসমালিক বাস মালিকদের সঙ্গে সভা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সড়ক পরিবহন ও রেল এবং সেতুমন্ত্রী ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ সড়ক ভবন তেজগাঁও সড়ক ভবন বাস রুট নতুন বাস কোম্পানি সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাস বাসরুট বাতিল গণপরিবহন সংস্কার গণপরিবহন উন্নয়ন বাস ভাড়া সমন্বয় যাত্রীদের নিরাপত্তা বাসের শৃঙ্খলা চার্জিং অটোরিকশা বাসচালক প্রশিক্ষিত চালক বাসস্টপেজ যাত্রীবান্ধব বাসস্টপেজ বাস কোম্পানির খরচ বাস বুকিং ফি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ