ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু বাড়ছে, সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২০২৬ জুন ২৫ ১৫:০৫:১৫

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু বাড়ছে, সতর্ক করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর প্রাদুর্ভাব বর্তমানে একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনের লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ব্যবহার, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং মানব ও প্রাণী খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে এ সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে এবং রোগের চিকিৎসা কার্যক্রমও ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

জীবাণু শনাক্তকরণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান অন এএমআর) বাস্তবায়ন এবং ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতির মাধ্যমে মানব, প্রাণী ও পরিবেশ খাতে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জাতীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সার্ভেইলেন্স বা নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি স্থাপন ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ল্যাবের মাধ্যমে জীবাণু শনাক্তকরণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সংবেদনশীলতা পরীক্ষা (কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি টেস্ট) পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট সরবরাহ এবং ল্যাবরেটরি জনবলের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল-আইপিসি) এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের প্রবণতা, ঝুঁকির কারণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নির্ধারণে সরকার বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল-প্রতিরোধী জীবাণুর শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত