ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রেসিডেন্ট

২০২৬ জুন ১৮ ১১:৫৪:০৮

যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বাক্ষর করেন বলে বুধবার (১৭ জুন) জানানো হয়। ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং বৃহৎ অর্থনৈতিক পুনর্গঠনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে ওয়াশিংটন আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না এবং প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চুক্তি লঙ্ঘন হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে, তবে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আশাও প্রকাশ করেন।

চুক্তিটি সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

প্রকাশিত ১৪ দফা অনুযায়ী, প্রথম দফায় সব পক্ষ—যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা—লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং ভবিষ্যতে একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকবে। দ্বিতীয় দফায় পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় দফায় ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে। চতুর্থ দফায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে ৩০ দিনের মধ্যে তা সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সময়সীমায় মার্কিন বাহিনী ইরানের নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে সরে যাবে।

পঞ্চম দফায় পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরানের ওপর দেওয়া হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আঞ্চলিক আলোচনার কথা বলা হয়েছে। ষষ্ঠ দফায় ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে।

সপ্তম দফায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আইএইএ-এর সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অষ্টম দফায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ইউরেনিয়াম মজুতের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

নবম দফায় চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। দশম দফায় ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম রপ্তানিতে তাৎক্ষণিক ছাড় দেওয়ার বিষয় রয়েছে। একাদশ দফায় জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

দ্বাদশ দফায় চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে একটি নির্বাহী কাঠামো গঠনের কথা রয়েছে। ত্রয়োদশ দফায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের পর বাকি বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে। চতুর্দশ দফায় চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে অনুমোদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত হবে। একই সঙ্গে ইরান নিষেধাজ্ঞা শিথিল, অর্থনৈতিক সুবিধা এবং জব্দকৃত সম্পদ ফেরতের সুযোগ পাবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত