ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

জুলাইয়ে পে-স্কেল কার্যকর, বেতন মিলবে অক্টোবরে

২০২৬ জুন ১৮ ১০:৪২:২৭

জুলাইয়ে পে-স্কেল কার্যকর, বেতন মিলবে অক্টোবরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চালুর ঘোষণা এলেও বর্ধিত বেতনের সুবিধা পেতে তাৎক্ষণিকভাবে অপেক্ষার অবসান হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নবম জাতীয় পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। ফলে অক্টোবরের আগে চাকরিজীবীদের হাতে নতুন হারে বেতন পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে বর্তমানে চালু থাকা বিশেষ সুবিধা বা ইনসেনটিভও নতুন কাঠামো চালুর পর আর বহাল থাকবে না।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাবনা এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হবে।

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

গত ১১ জুন বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বর্তমানে দেওয়া বিশেষ সুবিধা আলাদাভাবে বহাল থাকবে না। বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে এসব সুবিধা মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

ফলে ঘোষিত বেতন বৃদ্ধির হার যতটা বেশি মনে হচ্ছে, বাস্তবে নিট বেতন বৃদ্ধি তার চেয়ে কিছুটা কম হবে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত চাকরিজীবীদের কার্যকর বেতন বৃদ্ধি প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন অস্থায়ী সুবিধা ও ভাতার পরিবর্তে মূল বেতন কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এর ফলে চাকরিজীবীদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধার পরিমাণও বাড়বে।

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এ খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।

এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৪ হাজার ৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাবদ ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত বরাদ্দের একটি বড় অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নবম জাতীয় পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পেনশন ও অবসর-সুবিধার ভিত্তিও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ