ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ভারতের রাম মন্দির ট্রাস্টে ২০০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ

২০২৬ জুন ১৭ ১৮:৪১:০২

ভারতের রাম মন্দির ট্রাস্টে ২০০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মন্দির ট্রাস্টের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন ‘ধর্ম সেনা ভারত’-এর প্রধান ও সাবেক করসেবক সন্তোষ দুবে।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রবীণ নেতা এল কে আদভানির সঙ্গে বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে পরিচিত সন্তোষ দুবে অভিযোগপত্রে দাবি করেন, তিনি নিয়মিত রাম জন্মভূমি মন্দিরে দর্শনে গিয়ে দেখেছেন, ভক্তরা দানবাক্সে সোনা-রুপার গয়না, মুদ্রা ও নগদ অর্থ দান করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন এসব দানবাক্সে এক কোটি রুপির বেশি মূল্যমানের নগদ অর্থ, মুদ্রা ও গয়না জমা পড়ে।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, এসব অর্থ সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব ট্রাস্টের ট্রাস্টিদের ওপর থাকলেও তা সঠিকভাবে সংরক্ষণের বদলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই বানসালসহ অনিল মিশ্র, গোপাল রাও এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু (চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক হিসেবে পরিচিত) এর নামও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

সন্তোষ দুবে দাবি করেন, ট্রাস্টের কর্মকর্তারা দানবাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, সোনা-রুপার গয়না ও মুদ্রা সরিয়ে ফেলেছেন, যার মোট মূল্য ২০০ কোটি রুপির বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, হিসাবের খাতায় ভুয়া তথ্য ও জাল পরিসংখ্যান ব্যবহার করে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মন্দিরে অনুদান হিসেবে পাওয়া রত্নখচিত গয়না বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। কিছু সামগ্রী চোরদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

অভিযোগপত্রে সন্তোষ দুবে উত্তর প্রদেশ পুলিশের কাছে এফআইআর দায়েরের অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের পলিগ্রাফ পরীক্ষা (মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষা) করার দাবিও তোলেন তিনি।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলো বিশেষ করে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে তীব্রভাবে আক্রমণ শুরু করেছে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, “এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে উত্তর প্রদেশে বিজেপির শাসন দুর্নীতিতে ডুবে গেছে। তা না হলে এখানে এসআইটি (বিশেষ তদন্ত দল) গঠনের বদলে আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) গড়ে উঠত।”

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত