ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
তিন মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির ৭১ অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে ৫ হাজার ৪৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন শেষে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমে (ডিএমএস) যৌন হয়রানির ৭১টি অভিযোগ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে মোট ৯২৬টি অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে ৮৪৫টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক সমন্বিত মনিটরিং প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে যৌন হয়রানির অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনাক্ত হওয়া ৭১টি যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার কথাও বলা হয়েছে।
তিন মাসে ৯২৬ অভিযোগ
এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে মোট ৯২৬টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৮৪৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ নতুন অভিযোগ নিষ্পত্তির হার দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ২ শতাংশে।
মাউশির তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ২ হাজার ৩০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এর অর্থ সেখানে কোনো যৌন হয়রানি বা অনিয়ম ঘটেনি—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অভিযোগ জানানোর পরিবেশ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতা এবং প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিবেদন ব্যবস্থার ওপরও এ ধরনের তথ্য নির্ভর করে।
পরিকল্পিত পরিদর্শনের মাত্র ২৭ শতাংশ সম্পন্ন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত নজরদারির ক্ষেত্রেও বড় ঘাটতির তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এপ্রিল-জুন সময়ে ২০ হাজার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে পরিদর্শন করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৪৭টি। অর্থাৎ পরিকল্পিত পরিদর্শনের মাত্র ২৭ দশমিক ২১ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ে পরিদর্শন শেষ হয়েছে ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে। বাকি ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ পরিদর্শন বিলম্বে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, যৌন হয়রানি ও অন্যান্য অনিয়ম নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অনেক প্রতিষ্ঠানে নেই যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের ২০০৯ সালের নির্দেশনায় অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের জন্য কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল। তবে মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো এ ধরনের প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগ শনাক্তের পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেল, নিরাপদে অভিযোগ জানানোর পরিবেশ এবং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রতিবেদনের তথ্যকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অনেক প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে এখনো কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। দেশব্যাপী যৌন হয়রানির ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে মাউশির ডিএমএস অ্যাপে এ-সংক্রান্ত একটি সূচক যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি যৌন হয়রানি প্রতিরোধসংক্রান্ত নির্দেশিকা দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগ শনাক্ত ও নিষ্পত্তির পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা, নিরাপদ অভিযোগ জানানোর পরিবেশ এবং নিয়মিত মাঠপর্যায়ের তদারকি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে ৭ ক্যাটাগরিতে ৩৮ পদে নিয়োগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ অক্টোবর)
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ অক্টোবর)
- বাতিল পরীক্ষার নতুন সূচি দিল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ অক্টোবর)
- জেনে নিন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে আয়ের ১০টি উপায়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ভারতকে ৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- আড়ংয়ে পার্টটাইম চাকরির সুযোগ, থাকছে যেসব সুযোগ-সুবিধা
- এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর সাক্ষাৎ
- দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তির আগে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত নয়: হাইকোর্ট