ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত আদালতের: ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারতকে আবারও অনুরোধ জানিয়েছে তারেক রহমানের সরকার। তবে ভারতের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, প্রত্যর্পণের অনুরোধ দেশটির বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এ নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। প্রথমে ভারতীয় আদালতকে যাচাই করতে হবে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কি না।
আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে দেশে ফেরার সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ডিসেম্বর মাসে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান।
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত এবং তাঁর দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ওই রায়কে ভিত্তি করেই ঢাকা তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধের সঙ্গে ২০১৩ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রও দেওয়া হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এর আগে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে আদালতের রায়ে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট শর্তে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো অপরাধ প্রত্যর্পণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে হত্যা, নরহত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও হত্যায় প্ররোচনাসহ ১২ ধরনের অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধান রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনও প্রাসঙ্গিক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার, পাসপোর্ট ও ভিসা (সিপিভি) বিভাগ প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিষয়ে নোডাল দপ্তর হিসেবে কাজ করে। প্রয়োজন মনে করলে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে তদন্তের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে পারে।
তদন্ত শেষে ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন, অনুরোধকারী দেশে ওই ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে, তাহলে প্রত্যর্পণের সুপারিশ করা যেতে পারে। বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রাথমিক প্রমাণ না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
এদিকে ভারতের আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবি, দিল্লিতে অবস্থান করেও শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং বছরের শেষ দিকে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। অন্যদিকে ভারতের আদালতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে ২০২৫ সালের রায়ের বৈধতা নিয়েও আইনি চ্যালেঞ্জ তোলার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
সব মিলিয়ে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকা-দিল্লির আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- ১১-২০ গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ছে
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)
- বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ৬১৮ প্রভাষকের চাকরি স্থায়ীকরণ
- নারী এশিয়া কাপ সেমিফাইনাল: কবে, কখন কোন দলের ম্যাচ
- বুটেক্সে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৮ সেপ্টেম্বর)
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে মাহমুদা মিতু
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- ফের ব্যালন ডি’অরের তালিকায় মেসি