ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় নিউইয়র্কে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবদিহি এবং ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভ থেকে ১০৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জোসে নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি নিউইয়র্ক সিটিতে জন্মেছি ও বড় হয়েছি। এখানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিতি সম্পূর্ণ অসম্মানজনক। তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী এবং আমরা তা মেনে নিই না।’
ইহুদি সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের কাছে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে ৪০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন। এতে তারকা, সংগঠক ও রাজনীতিকরাও ছিলেন। নেতানিয়াহুর জাতিসংঘের ভাষণের আগে বিক্ষোভকারীরা ফার্স্ট অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। জেভিপি ও এনওয়াইসি-ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা যৌথভাবে কর্মসূচিটির আয়োজন করে।
ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের সদস্য ও জেভিপির বিক্ষোভের কর্মী নাস ইসা বলেন, ‘এই সপ্তাহে আমরা দেখছি, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে নিজেদের বিশ্বদর্শন প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাদের সেই বিশ্বব্যবস্থা শক্তি প্রয়োগ ও দায়মুক্তির সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’
বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় নিউইয়র্কের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেন। এর এক দিন আগে এনওয়াইসি-ডিএসএ জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলন করে। সংগঠনটি বিমানবন্দর দিয়ে ইসরাইলে সামরিক ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ এবং এর আগে পাঠানো সামরিক সহায়তার বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা দাবি করে।
বৃহস্পতিবার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সড়ক ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানায়, বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগে ১০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে নয়জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরও আটক হন।
এক বিবৃতিতে আভিলা শেভালিয়ের বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্থান হেগে, নিউইয়র্কের রাস্তায় নয়। আর অবশ্যই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার জায়গাও তার নয়।’
জেভিপির সংগঠক জেস ফ্র্যাঙ্কেল ক্যারেল বলেন, একজন ইহুদি নিউইয়র্কবাসী হিসেবে তিনি চান, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ইসরাইলের গাজা যুদ্ধের পরিবর্তে দেশের নিজস্ব জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যয় করা হোক।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের করের টাকা শিশুদের ওপর বোমা হামলায় ব্যয় হোক। আমরা চাই এই অর্থ এখানকার স্কুলগুলোতে ব্যয় করা হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার অনেক সহযোদ্ধাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা এখানে থাকব। এই যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
এর কয়েক ঘণ্টা পর নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধে আরেকটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজারো মানুষ জাতিসংঘ সদর দপ্তরের দিকে মিছিল করেন। ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্ট ও দ্য পিপলস ফোরাম এই বিক্ষোভের আয়োজন করে।
ফিলিস্তিনি ইয়ুথ মুভমেন্টের সংগঠক তাহের দাহলেহ বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কেন এই শহরে মাত্র ১০ ঘণ্টা থাকতে চেয়েছিলেন, তা স্পষ্ট। এই শহর আন্তর্জাতিক আইনের পলাতক ব্যক্তি বা যুদ্ধাপরাধীদের জন্য কখনো নিরাপদ আশ্রয় হবে না।’
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- অক্টোবরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা মন্ত্রণালয়ের
- পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নতুন নির্দেশনা
- বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার চেক ছাড়
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- ৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (১ অক্টোবর)
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল