×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার আওতায় আনা হবে: মীর হেলাল

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ২১:২৪:০৯

পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার আওতায় আনা হবে: মীর হেলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান ও ভাগ্যোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ এবং সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।

মঙ্গলবার ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নিয়ে আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন এডিপিভুক্ত প্রকল্প ও স্কিমগুলোর আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে জিওবি ও প্রকল্প সাহায্যসহ মোট ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সমতার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের সুদূরপ্রসারী ভাবনার অংশ হিসেবে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের ই-লার্নিং, আধুনিক শিক্ষা ও দূরশিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে সমতল অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের সমতুল্য করার উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। এজন্য আমরা সকলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের শিক্ষার্থীদের সুযোগের বৈষম্য কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা একদিন বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করবে এবং বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাহাড়ের ছাত্রছাত্রীদের ই-লার্নিং পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণ এবং গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরাজিতে তাদের অগ্রগতি দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন তিনি।

পাহাড়ের নারীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট কমাতে সুপেয় পানি সরবরাহের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে আধুনিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাহাড়ের নারীরা যুগের পর যুগ ধরে দূর থেকে পানি সংগ্রহ করে অনেক কষ্ট করে থাকেন। সুপেয় পানি সরবরাহের মাধ্যমে তাঁদের এই কষ্ট লাঘব করতে হবে।

এ ছাড়া প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ভূমিধস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় পরিবেশসম্মত ও প্রতিবেশের বিঘ্ন না ঘটিয়ে টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন শিক্ষার্থী ঢাকার শহর থেকে হোক কিংবা বান্দরবান, রাঙামাটি বা খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা থেকে হোক, যোগ্যতা থাকলে তার সামনে সমান সুযোগ থাকবে। পাহাড়ের মেধাবী সন্তানরা ডাক্তার, প্রকৌশলী, গবেষক ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে দেশের অর্থনীতি ও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা ও অতুল সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্মসচিব) শেখ ছালেহ আহাম্মদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যা চিং, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রা সা হোয়াই মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম এবং খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ইলিয়াস মেহেদীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ