ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শিশু রামিসা হ/ত্যা: ঘাতক দম্পতির বিচার শুরু, কালই সাক্ষ্যগ্রহণ

২০২৬ জুন ০১ ১১:৪৭:১২

শিশু রামিসা হ/ত্যা: ঘাতক দম্পতির বিচার শুরু, কালই সাক্ষ্যগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

আজ সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে আদালত মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) থেকেই সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল পৌনে আটটার দিকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে করে দুই আসামিকে আদালত চত্বরে আনা হয়। শুনানির আগ পর্যন্ত সোহেল রানাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে নারী হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে শুনানির সময় তাদের এজলাসে হাজির করা হয়।

এর আগে গত ২৪ মে একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়ে শুনানির জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন। তারও আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক চার্জশিটটি গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।

নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে ফুসলিয়ে নিজেদের ঘরে নিয়ে যায়। সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীর দরজার সামনে মেয়ের জুতো দেখতে পেয়ে তিনি ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সন্দেহ হলে, রামিসার বাবা-মা ও ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন।

রুমে প্রবেশ করতেই তারা শিউরে ওঠেন। শোবার ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল রামিসার মাথা বিচ্ছিন্ন দেহ এবং পাশের একটি বড় বালতির ভেতর রাখা ছিল তার মাথা। তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল দেওয়া হলে পল্লবী থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারের পর গত ২০ মে (বুধবার) আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় সোহেল রানা। সে জানায়, ঘটনার আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রামিসাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করলে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই সময়েই রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সোহেল ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার গলা কেটে হত্যা করে।

শুধু তাই নয়, লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে সে শরীর থেকে মাথা ও দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে এবং বিকৃত যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। এই পুরো নৃশংস ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্না একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল স্পষ্ট জানায়, মাদকাসক্ত হয়েই সে এই পাশবিক কাণ্ড ঘটিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত