ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
‘প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে’
নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পুরো অংশজুড়েই শিশুরা টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, প্রথম ধাপের টিকাদানের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। প্রতিটি শিশুর জীবন রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, এ লক্ষ্যেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে হাম পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে মহাপরিচালক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে হামের সংক্রমণ বাড়লেও বাংলাদেশেও এর প্রভাব দেখা গেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে। সীমিত সময় ও নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সরকারের শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি জানান, ক্যাম্পেইনের প্রথম ধাপ ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় শুরু হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল থেকে এটি সারা দেশে বিস্তৃত করা হয়। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করা যায়।
ডিএইচআইএস-২-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে ইতোমধ্যে টিকার আওতায় আনা হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, প্রথম পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণের পর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠতে সাধারণত তিন সপ্তাহ সময় লাগে। সে কারণে দ্রুতই সংক্রমণ আরও কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, যেসব শিশু এখনো টিকা নেয়নি কিংবা যারা নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির আওতায় দুই ডোজ টিকা পেয়েছে, তারাও যেন এই ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত বয়সের অনেক শিশু এখনো টিকার বাইরে রয়েছে। হাম নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করতে হলে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি। এজন্য র্যাপিড কনভেনিয়েন্স মনিটরিং (আরসিএম) অ্যাপের মাধ্যমে টিকাবঞ্চিত শিশু শনাক্ত করে তাদের টিকাদানের আওতায় আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি পোস্টার, লিফলেট, ইনফোগ্রাফিক, ভিডিও বার্তা, টক শো ও টিভি স্ক্রলের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, বিশেষ সান্ধ্যকালীন সেশন, শুক্রবারভিত্তিক বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম এবং দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় মোবাইল টিমের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় ৯ ও ১৫ মাস বয়সে দেওয়া হাম-রুবেলা টিকাসহ অন্যান্য টিকার সরবরাহ মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
দেশের টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পরিসরে ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ইউনিসেফের সহায়তায় প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে এবং মে মাস থেকেই তা দেশে আসা শুরু করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩ মে থেকে এ পর্যন্ত দেশে এসেছে বিসিজি ভ্যাকসিন ২ লাখ ৭৪ হাজার ভায়াল, ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন ১ লাখ ৪০ হাজার ভায়াল, এমআর ভ্যাকসিন ৬ লাখ ৪৫ হাজার ডায়াল, আইপিভি ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮১৬ ভায়াল, পেন্টা ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫০ ভায়াল এবং টিডি ভ্যাকসিন ৩ লাখ ৫ হাজার ভায়াল।
বর্তমানে টাইফয়েড ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্যবহৃত এইচপিভি ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, নতুন সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় ভবিষ্যতে দেশে ভ্যাকসিন সংকট থাকবে না। চলতি মাসজুড়ে আরও বড় পরিসরে ভ্যাকসিন সরবরাহ সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হবে, যা জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ও হাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে হাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে এবং শিশুদের নিরাপদ রাখা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী, পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদসহ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র নতুন কমিটি ঘোষণা
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী
- শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ
- মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন যুগের শুরু: গাইডলাইন প্রকাশ করল বিএসইসি
- সাদিক কায়েমের বিয়ে নিয়ে যা জানা গেছে
- ৫৪ জেলায় টিসিবির ডিলার নিয়োগ, আবেদন শুরু ১০ মে
- ব্যবসায় বড় লাফ ইউসিবি ও লিন্ডে বিডির
- ঢাবিতে প্রথমবারের মতো আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি কর্মশালা
- মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি এমজেএফের
- ঢাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল
- ঈদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি, মাদরাসায় টানা ২১ দিন বন্ধ
- মৌসুমীর ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য জেবা জান্নাতের
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর যোগদান
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফের চালু বেত্রাঘাত! কার্যকর যেদিন থেকে