ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

‘জুলাই সনদ নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে’

২০২৬ মে ১৩ ১৮:২৭:৪৩

‘জুলাই সনদ নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপরও কিছু মহল এ সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সনদ বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

সোমবার (১২ মে) থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধাদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী সেখানে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যাংককের ভেজথানি ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছে। পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা ও অন্যান্য সব ব্যয় সরকার বহন করছে। একইভাবে রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কে চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের বিষয়েও নিয়মিত তদারকি চলছে এবং সেখানকার ব্যয়ও সরকারই বহন করছে।

মন্ত্রী আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কল্যাণ কার্যক্রমে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আন্দোলনের আদর্শ ও ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে এমআইএসভুক্ত জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৬৯ জন এবং শহীদের সংখ্যা ৮৪৪ জন। এই অধিদপ্তর প্রকৃত যোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই, তালিকা প্রণয়ন, সংশোধন এবং গেজেট প্রকাশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

জুলাই যোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের এককালীন ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের ক্ষেত্রে আঘাতের মাত্রা অনুযায়ী এককালীন পাঁচ লাখ, তিন লাখ ও এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং মাসিক ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫২ জন আহত জুলাই যোদ্ধাকে রাশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও তুরস্কে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৯২ জন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৬০ জন এখনো বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে পাওয়া ৩ হাজার ৪২৫টি আবেদনের মধ্যে ১ হাজার ৯৩৭ জন জুলাই যোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে পত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত