ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক
বিনোদন ডেস্ক: সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও মুক্তির পরপরই বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি প্রায় ৩৯.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে। সপ্তাহান্ত শেষে এই আয় ৯৫ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে। এর আগে ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ কিংবা ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’ যে সাফল্য তৈরি করেছিল, সেটিও ছাড়িয়ে গেছে এই সিনেমা।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটির সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ৮০টির বেশি দেশে মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী আয় ২০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। মহামারির পর লায়নসগেটের জন্য এটি সবচেয়ে বড় ওপেনিং হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা স্টুডিওটির জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর।
সমালোচকদের মিশ্র মন্তব্য থাকলেও দর্শকদের প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেকে মনে করছেন, ছবিটি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরেনি। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকের অভিযোগগুলোর প্রসঙ্গ খুব বেশি গভীরে যায়নি।
অন্যদিকে দর্শকের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রেক্ষাগৃহে গান ও নাচের সঙ্গে দর্শকদের অংশগ্রহণ সিনেমাটিকে উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত করে। অনেক দর্শকের মতে, এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং একটি অভিজ্ঞতা যা ‘বিলি জিন’ ও ‘থ্রিলার’-এর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টনি ফুকোয়া। প্রযোজনায় ছিলেন গ্রাহাম কিং, যিনি ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’র সাফল্যের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর ভাতিজা জাফর জ্যাকসন, যার পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে।
তবে সিনেমাটির পথচলা ছিল বেশ জটিল। আইনি জটিলতা ও পুনঃশুটিংয়ের কারণে বাজেট বেড়ে প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। বাস্তব জীবনের একটি মামলার কারণে গল্পের কিছু অংশ পরিবর্তনও করতে হয়, যার ফলে চূড়ান্ত ভার্সনে বড় পরিবর্তন আসে।
মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অংশ, বিশেষ করে ১৯৯৩ সালের অভিযোগ, শুরুতে থাকলেও পরে আইনি কারণে বাদ দেওয়া হয়। ফলে গল্পের ফোকাস চলে যায় তাঁর পরিবার ও বিশেষ করে কঠোর স্বভাবের বাবা জো জ্যাকসনের সঙ্গে সম্পর্কের দিকে, যা সিনেমাটিকে একটি আবেগঘন দিক দিয়েছে।
ছবির সাফল্যের পেছনে রয়েছে কয়েকটি প্রধান কারণ। প্রথমত, মাইকেল জ্যাকসনের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা। দ্বিতীয়ত, তাঁর সংগীত ও পারফরম্যান্সের প্রতি দর্শকদের নস্টালজিয়া। তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা, যা মুক্তির আগেই কোটি মানুষের আগ্রহ তৈরি করে।
বক্স অফিসের এই সাফল্য প্রমাণ করে, শক্তিশালী ব্যক্তিত্বকেন্দ্রিক গল্প এখনো দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টানতে সক্ষম। সাম্প্রতিক সময়ে বায়োপিক ঘরানার প্রতি যে আগ্রহ বাড়ছে, ‘মাইকেল’ সেই ধারাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিতর্ক থাকলেও ‘মাইকেল’ বক্স অফিসে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে এবং প্রমাণ করেছে ‘কিং অব পপ’-এর জনপ্রিয়তা এখনো অটুট।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হ/ত্যার পেছনে ছিল বিরোধও
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল
- সিগারেট নিয়ে নতুন বিধান জারি
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- নতুন পে স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, দেখুন এখানে
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- রাস্তার পাশে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান পরিবহন মালিক সমিতির
- পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- অপ্রতিম হ/ত্যার রহস্যময় তথ্য উন্মোচন করেছে পুলিশ
- ঢাবির ৬৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি
- স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশ পোস্ট বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের স্মারকলিপি