ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

পদ্মা অয়েলের ১৯৩ কোটি টাকা ‘ভুল’ বিনিয়োগ!

২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৫:০১:৩১

পদ্মা অয়েলের ১৯৩ কোটি টাকা ‘ভুল’ বিনিয়োগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি খাতের কোম্পানি পদ্মা অয়েল লিমিটেড এক বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বেসরকারি খাতের পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে রাখা কোম্পানির ১৯৩ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) এখন আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। উচ্চ খেলাপি ঋণ ও ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়া ব্যাংকগুলো অন্য ব্যাংকের সাথে একীভূত হয়ে যাওয়ায় এই অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে খোদ কোম্পানির নিরীক্ষক (Auditor) তীব্র শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

যেখানে আটকে আছে টাকা

কোম্পানির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালীন ধসে পড়া পাঁচটি ব্যাংকে এই অর্থ জমা রাখা হয়েছিল। ব্যাংকভিত্তিক জমার পরিমাণ হলো:

◉ এক্সিম ব্যাংক: ৮১ কোটি টাকা।

◉ গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

◉ ইউনিয়ন ব্যাংক: ৫৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

◉ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক: ৩৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

◉ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা।

◉ নিরীক্ষকের উদ্বেগ ও কোম্পানির অবস্থান

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো নগদ অর্থ সংকটে থাকায় পদ্মা অয়েলের এফডিআর প্রত্যাহারের চিঠিতে কোনো সাড়া দেয়নি। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক হিসাব মান (IAS) অনুযায়ী, ওই অর্থের বিপরীতে আর্থিক হিসাবে লোকসান বা প্রভিশন দেখানো উচিত ছিল।

এ প্রসঙ্গে পদ্মা অয়েলের কোম্পানি সচিব আলী আবসার বলেন, "ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে 'সম্মিলিত ব্যাংক' গঠন করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, আশা করা যাচ্ছে ভবিষ্যতে কোনো স্কিমের মাধ্যমে এই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।"

বিনিয়োগকারীদের ওপর প্রভাব

১৯৭৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া পদ্মা অয়েলের পরিশোধিত মূলধন ৯৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৪৭.৫৯ শতাংশ শেয়ারই রয়েছে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে। ফলে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় না হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে লভ্যাংশ এবং কোম্পানির শেয়ার দরের ওপর।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত