ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

লোকসানের বৃত্ত ভাঙতে ১৯২ কোটি টাকার মূলধন জোগান উত্তরা ব্যাংকের

২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১১:১০:৩০

লোকসানের বৃত্ত ভাঙতে ১৯২ কোটি টাকার মূলধন জোগান উত্তরা ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উত্তরা ব্যাংক পিএলসি তাদের ব্রোকারেজ সাবসিডিয়ারি 'উত্তরা ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড'-এর আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ১৯২ কোটি টাকা মূলধনের জোগান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে এই অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। লোকসানে থাকা এবং স্বল্প মূলধনের সাবসিডিয়ারিটিকে ঘুরে দাঁড় করানোর লক্ষ্যেই ব্যাংকটির এই বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত।

গত ১৬ এপ্রিল উত্তরা ব্যাংক সিকিউরিটিজের এক বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত শর্ত অনুযায়ী, ব্রোকারেজ হাউসটি প্রতি ১টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ৪টি রাইট শেয়ার ইস্যু করবে। প্রতিটি রাইট শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মোট ২০০ কোটি টাকার নতুন পেইড-আপ মূলধন সংগ্রহ করবে।

এই মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে বর্তমান শেয়ারহোল্ডিং কাঠামো অনুযায়ী, উত্তরা ব্যাংক মোট ১৯২ কোটি টাকা জোগান দেবে। বাকি ৮ কোটি টাকা জোগান দেবেন ব্রোকারেজ হাউসটির অন্য ৬ জন ব্যক্তিগত শেয়ারহোল্ডার। ইজিএমে অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে এই সাবস্ক্রিপশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

উত্তরা ব্যাংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম ফারুক বলেন, বর্তমানে কোম্পানির ৫০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দক্ষতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মূলধনের ভিত্তি শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়া, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ঝুঁকি-ভিত্তিক মূলধন নিয়মাবলি মেনে চলা এবং বাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার প্রস্তুতি হিসেবেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০১০-১১ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারে এ ধরণের মূলধন কাঠামোর শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।

২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা উত্তরা ব্যাংক সিকিউরিটিজ সম্প্রতি আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৪.৯৪ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। এছাড়া ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সংরক্ষিত আয়ের পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ১.৮০ কোটি টাকা। তবে ৩৬৯.৭০ কোটি টাকার বিশাল সম্পদ ভিত্তি রয়েছে তাদের।

বিপরীত দিকে, মূল প্রতিষ্ঠান উত্তরা ব্যাংক আর্থিকভাবে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত নিট মুনাফা ছিল ৩৩৫ কোটি টাকা এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ৪৬ পয়সা। প্যারেন্ট কোম্পানি হিসেবে উত্তরা ব্যাংকের এই শক্তিশালী আর্থিক সক্ষমতাই লোকসানে থাকা সাবসিডিয়ারিটিকে টেনে তোলার মূল রসদ জোগাচ্ছে। বর্তমানে সাবসিডিয়ারিটিতে উত্তরা ব্যাংকের মালিকানা ৯৯.৯৯৪ শতাংশ।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত