ঢাকা, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কারখানা বন্ধ, লোকসানের পাহাড়ের মধ্যেও শেয়ারদর বাড়ল ২২৬%

২০২৬ জুন ০৭ ২১:৩১:৪৩

কারখানা বন্ধ, লোকসানের পাহাড়ের মধ্যেও শেয়ারদর বাড়ল ২২৬%

অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ এবং টানা লোকসানের বৃত্তে হাবুডুবু খাওয়া সত্ত্বেও দেশের শেয়ারবাজারে রূপকথার গতিতে বাড়ছে মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারের দাম। বন্ধ এই কোম্পানির শেয়ারদরের এমন অস্বাভাবিক ও লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি তদন্তে নেমেছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। তবে বাজার তদারকি শেষে ডিএসই জানিয়েছে, এই জ্যামিতিক হারে দর বৃদ্ধির পেছনে কোনো ধরনের যৌক্তিক বা দৃশ্যমান কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ডিএসইর বাজার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের গত ১২ এপ্রিল কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল মাত্র ২৭ টাকা ৯০ পয়সা। কিন্তু দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে, অর্থাৎ গত ৪ জুন লেনদেন শেষে তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ টাকা ৯০ পয়সায়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে শেয়ারপ্রতি দর বেড়েছে রেকর্ড ৬৩ টাকা বা প্রায় ২২৬ শতাংশ।

একটি অচল কোম্পানির শেয়ারের এমন আকাশচুম্বী উত্থানকে চরম অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক মনে করছে ডিএসই। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কোনো কারসাজি বা অপ্রকাশিত কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়ে মেঘনা পেট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তলব করা হয়। তবে এর জবাবে কোম্পানির পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে—কোনো ধরনের অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) ছাড়াই বাজারে তাদের শেয়ারের দাম এভাবে বাড়ছে।

বাস্তব চিত্র হচ্ছে, গত কয়েক বছর ধরেই মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় কোনো উৎপাদন নেই। ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির থাকায় কোম্পানিটি বছরের পর বছর ধরে কেবল লোকসানই গুনে চলেছে। টানা এই মন্দার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর, ফলে বছরের পর বছর ধরে তারা কোনো ডিভিডেন্ড পাচ্ছেন না। মেঘনা পেটের আর্থিক দৈন্যদশা এতটাই প্রকট যে, সর্বশেষ ঠিক কোন বছর তারা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়েছিল, সেই সংক্রান্ত কোনো তথ্য খোদ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডাটাবেজেও নেই।

সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও বড় অঙ্কের লোকসান করেছে এই রুগ্ণ কোম্পানিটি। ওই এক বছরে মেঘনা পেটের মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা শেয়ারপ্রতি (ইপিএস) ২ টাকা ৭৫ পয়সা।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বহুল আলোচিত এই কোম্পানির সিংহভাগ শেয়ারই রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পকেটে, যার পরিমাণ ৫৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বাকি শেয়ারের মালিকানায় রয়েছেন কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকেরা। ফলে এই ধরনের কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজিই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

শেয়ারবাজার এর অন্যান্য সংবাদ

ফের কমেছেসোনার দাম

ফের কমেছেসোনার দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির প্রভাবে আবারও সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে... বিস্তারিত