ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
আইপিও প্রসপেক্টাসে মিথ্যা তথ্য: ফেঁসে যাচ্ছে শাহজালাল ইক্যুইটি
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তবের (আইপিও) নথিপত্রে ভুল তথ্য পরিবেশন ও যথাযথ দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছে মার্চেন্ট ব্যাংক শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও বাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সনদ বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শাহজালাল ইক্যুইটির যাবতীয় কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ সদস্যের এই কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি দাপ্তরিক আদেশ জারি করা হয়েছে। এই বিশেষ তদন্ত দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমান, আর পুরো প্রক্রিয়াটি সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।
বিএসইসি সূত্র জানায়, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, দায় এবং গ্রাহকদের দেনা-পাওনার প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা বাধ্যতামূলক। তদন্ত কমিটি মূলত শাহজালাল ইক্যুইটির আর্থিক সক্ষমতা যাচাইসহ লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদান করবে। এটি বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিশনের একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
কমিশন মনে করে, একমি পেস্টিসাইডসের প্রসপেক্টাসে অসত্য তথ্য প্রদান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তি বিধিমালা ও সিকিউরিটিজ অর্ডিন্যান্সের গুরুতর লঙ্ঘন। এই অনিয়মের গভীরতা কতটুকু এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা বিস্তারিতভাবে অনুসন্ধান করবে গঠিত এই কমিটি।
তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা শাহজালাল ইক্যুইটির সর্বশেষ সম্পদ ও দায়ের হিসাব সংগ্রহের পাশাপাশি গ্রাহকদের পাওনা টাকার সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করেন। এছাড়া সিকিউরিটিজ আইনের অন্য কোনো ধারা লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে যুক্ত করতে বলা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আইপিও প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন কঠোর অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য মঙ্গলজনক। এতে ইস্যু ম্যানেজারদের দায়বদ্ধতা বাড়বে এবং বাজারে স্বচ্ছতা ফিরবে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি শেয়ারবাজারকে আরও স্থিতিশীল করবে বলে তারা আশা করছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই বিএসইসির ৯৭৩তম সভায় একমি পেস্টিসাইডসের ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই মার্চেন্ট ব্যাংকটির লাইসেন্স বাতিলের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। এখন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের খেলা চলছে: ব্যাটিংয়ে টাইগাররা-দেখুন সরাসরি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ এপ্রিল)
- শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সম্ভাব্য সময় জানাল মন্ত্রণালয়
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর খেলাটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম
- ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনতে প্রবাসীদের উৎসাহের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
- বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটি
- সময় কমিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সিদ্ধান্ত
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশাল সুখবর
- শীর্ষ ১০ ইহুদিবিদ্বেষী প্রভাবশালীদের তালিকা প্রকাশ করল ইসরাইল
- রেকর্ড মুনাফা করে ডিভিডেন্ডে চমক দেখাল ইস্টার্ন ব্যাংক
- শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দেশবাসীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের নববর্ষের শুভেচ্ছা
- কপার টি: নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
- আগের মালিকদের হাতে ফিরছে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক
- ঢাবির ক্ষণিকা বাস দু/র্ঘটনায় আ/হত ৮ শিক্ষার্থী