ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
ঐতিহ্য ও আবেগে ভরপুর চৈত্র সংক্রান্তি আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক: পুরনো বছরের ক্লান্তি ও জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে নতুনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বাঙালির জীবন। চৈত্রের শেষ প্রহরে বিদায়ের সুর আর আগমনের প্রত্যাশা মিলেমিশে তৈরি করেছে এক আবেগঘন মুহূর্ত—যার নাম চৈত্র সংক্রান্তি।
আজ বাংলা সনের শেষ দিন, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ। এই দিনটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি সমাপ্তি নয়; বরং এটি পুরনো বছরের সব গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন আশায় এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। চৈত্র সংক্রান্তি তাই বিদায়ের সঙ্গে নতুন সূচনার অঙ্গীকারও বহন করে।
অঞ্চলভেদে আচার-অনুষ্ঠানে ভিন্নতা থাকলেও চৈত্র সংক্রান্তির মূল সুর এক ও অভিন্ন। যুগের পর যুগ ধরে বাঙালির সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও জীবনধারার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। একসময় এটি নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশ নেয়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী এ উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন করে, যা তাদের ঐতিহ্যের বর্ণিল প্রকাশ।
গ্রামবাংলায় এই দিনের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। পুরনো বছরের হিসাব চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের যাত্রা শুরু করেন।
খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে বিশেষত্ব। এদিন অনেকেই আমিষ পরিহার করে নিরামিষ আহার করেন। কোথাও কোথাও ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্নার প্রচলন আছে, যা প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রতীক। আবার ছাতু খাওয়ার রীতিও রয়েছে কিছু অঞ্চলে। চৈত্রের শেষে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার প্রথা স্বাস্থ্য সচেতনতার এক প্রাচীন দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রতপালন, শিবপূজা ও নানা ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে তারা চৈত্র সংক্রান্তি উদযাপন করেন। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বলন ভবিষ্যতের শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
সময়ের পরিবর্তনে শহুরে জীবনে এই উৎসবের কিছু রূপ বদলালেও গ্রামীণ ঐতিহ্য এখনো অটুট রয়েছে। মেলা, পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
এ বছরও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বিকেলে লোকশিল্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এতে অর্কেস্ট্রা পরিবেশনা, ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠসহ নানা আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা এই উৎসবকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে। যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’ মঞ্চস্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের আবহ ছড়িয়ে পড়বে দর্শকদের মাঝে।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃ/ত্যুতে রাজনীতিতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে: রিজভী