ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

হামের ঝুঁকি থেকে শিশুকে রক্ষার উপায়

২০২৬ মার্চ ২৯ ২১:১০:১৭

হামের ঝুঁকি থেকে শিশুকে রক্ষার উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে আবারও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সংক্রামক রোগ হাম, যা দ্রুতগতিতে বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে রাজশাহী অঞ্চলকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, ঢাকাসহ দেশের অন্তত সাতটি জেলায় রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত জেলার তালিকায় রয়েছে ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোর। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতাল থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে ঢাকায় পরীক্ষা করা হচ্ছে, যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, অনেকেই হামকে সাধারণ জ্বর বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন, যা মারাত্মক ভুল। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের শরীরে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।

হামে আক্রান্ত হলে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোগটি সাধারণত কয়েকটি ধাপে প্রকাশ পায়। প্রথমে জ্বর, কাশি ও নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়। এরপর চোখ লাল হয়ে যায় এবং আলো সহ্য করতে কষ্ট হয়। কয়েকদিন পর মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে যা হামের প্রধান লক্ষণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন আক্রান্ত শিশু সহজেই ৮ থেকে ১০ জন সুস্থ শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে। তাই সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ে এমএমআর টিকা নিশ্চিত করা না হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।

এছাড়া আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জ্বরের সঙ্গে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে অবহেলা ও সচেতনতার ঘাটতির কারণেই হামের মতো রোগ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। তাই আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত