ঢাকা, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাউশির জরুরি নির্দেশনা

২০২৬ মার্চ ১৫ ১৯:২৫:৫৫

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাউশির জরুরি নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও একাডেমিক মানোন্নয়নে বিশেষ তদারকি শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মাদকবিরোধী প্রচারণা, ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং ‘র‍্যাগ ডের’ নামে চলা বিশৃঙ্খলা বন্ধে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে একটি জরুরি চিঠি ইস্যু করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মাউশির পক্ষ থেকে আঞ্চলিক পরিচালক ও উপপরিচালকদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ‘মাদকবিরোধী ডকুমেন্টারি’ প্রদর্শন করেছে কি না, ইভটিজিং রোধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং রাতে পড়াশোনায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করার জন্য সচেতনতামূলক কী কী কাজ করেছে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাঠাতে হবে। ৩০ মার্চের মধ্যে নির্ধারিত ইমেইল ([email protected]) ঠিকানায় এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

মূলত গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। শিক্ষা সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই ‘আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা’ থেকে মাদকের কুফল সম্পর্কে প্রচারণা বাড়াতে এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর প্রেক্ষাপটেই 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নির্মিত মাদকবিরোধী ডকুমেন্টারি ও থিম সং' শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়। এছাড়া ‘র‍্যাগ ডের’ নামে চলা অপসংস্কৃতি ও বিশৃঙ্খলা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নিজ নিজ আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে একটি সামগ্রিক প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে কত শতাংশ প্রতিষ্ঠান এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পেরেছে এবং 'বাস্তবায়ন করতে না পারা প্রতিষ্ঠানের শতকরা হার (যদি থাকে)' কত। এছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হয়, তবে ‘না পারার কারণ’ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্যও প্রতিবেদনে যোগ করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কঠোর তদারকির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিচ্যুত হওয়ার পথ বন্ধ হবে এবং অভিভাবক-শিক্ষকদের মধ্যে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের রাত জেগে পড়াশোনায় উৎসাহিত করার উদ্যোগটি দীর্ঘমেয়াদে একাডেমিক ফলাফলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত