ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালে রের্কড ১২৯ সাংবাদিক নিহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও সহিংসতার মধ্যে ২০২৫ সাল সংবাদকর্মীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছরগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর কাজ করতে গিয়ে রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সংবাদকর্মী প্রাণহানির ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছে ২০২৫ সাল। নিহতদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মৃত্যু ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিপিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে অন্তত ৮৬ জন সাংবাদিক প্রাণ হারান, যাদের বেশিরভাগই গাজার ফিলিস্তিনি সংবাদকর্মী। এছাড়া ইয়েমেনে হুথি-নিয়ন্ত্রিত একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন, যা সংস্থাটির নথিভুক্ত ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা।
সিপিজে যে ৪৭টি ঘটনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ‘হত্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তার ৮১ শতাংশের জন্যও ইসরায়েল দায়ী বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে গাজায় প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতা থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা কঠিন এবং বাস্তবে সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। অতীতে তারা দাবি করেছে, গাজায় অভিযানের সময় কেবল যোদ্ধাদের লক্ষ্য করা হয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করা স্বভাবতই ঝুঁকিপূর্ণ।
গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের ওই গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার দায় স্বীকার করে ইসরায়েল সেটিকে হুথিদের প্রচারণা কেন্দ্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। অন্যদিকে, গাজায় নিহত কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে হামাসের যোগাযোগ ছিল বলেও ইসরায়েল দাবি করলেও তার পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ইসরায়েলের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, নিহত সাংবাদিকদের সঙ্গে হামাসের কোনও সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিপিজে এ ধরনের অভিযোগকে ‘ভয়াবহ অপবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গাজায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি না থাকায় সেখানে নিহত সব সংবাদকর্মীই স্থানীয় ফিলিস্তিনি ছিলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যেকোনও দেশের সামরিক বাহিনীর তুলনায় সাংবাদিকদের নিশানাভিত্তিক হত্যার অভিযোগে ইসরায়েলি বাহিনীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিক হতাহতের তথ্য সংগ্রহ করে আসা সিপিজে জানিয়েছে, নিহত ১২৯ জনের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সংঘাত-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে সুদানে ৯ জন এবং মেক্সিকোতে ৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
এছাড়া ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হামলায় চারজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং ফিলিপাইনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া সাংবাদিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ সাংবাদিকদের নিশানা করার অভিযোগ তুলেছে, যদিও কিয়েভ তা নাকচ করেছে। ওয়াশিংটনে রুশ দূতাবাস থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের খেলা চলছে: ব্যাটিংয়ে টাইগাররা-দেখুন সরাসরি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৪ এপ্রিল)
- শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সম্ভাব্য সময় জানাল মন্ত্রণালয়
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের রোমাঞ্চকর খেলাটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনতে প্রবাসীদের উৎসাহের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম
- শীর্ষ ১০ ইহুদিবিদ্বেষী প্রভাবশালীদের তালিকা প্রকাশ করল ইসরাইল
- সময় কমিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সিদ্ধান্ত
- বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনিভার্সিটি
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশাল সুখবর
- রেকর্ড মুনাফা করে ডিভিডেন্ডে চমক দেখাল ইস্টার্ন ব্যাংক
- কপার টি: নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
- শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দেশবাসীকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের নববর্ষের শুভেচ্ছা
- ঋণ জটিলতা ও লোকসানের পাহাড়, তবুও রহস্যজনকভাবে বাড়ছে কোম্পানির শেয়ারদর
- আগের মালিকদের হাতে ফিরছে একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক